logo

১০০০ টাকায় মিলছে ৮০০ টাকার জ্বালানি

১০০০ টাকায় মিলছে ৮০০ টাকার জ্বালানি

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় খানসামা ফিলিং স্টেশন–এ ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। পাম্পে এক হাজার টাকা দিলেও তেল মিলছে ৮০০ টাকার।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) উপজেলার হলদিপাড়ায় অবস্থিত পাম্পে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অকটেন নিতে এসে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরা।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, ১০০০ টাকা দিয়ে তেল নিতে গেলে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮০০ টাকার সমপরিমাণ তেল; একইভাবে ৬০০ টাকার তেলের বদলে দেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকার তেল। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে মাইলেজ কমে যাওয়া এবং তেলের পরিমাণে স্পষ্ট গরমিল দেখে প্রতারণার বিষয়টি টের পাচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ফিলিং স্টেশনটিতে এ ধরনের অনিয়ম চললেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি বা দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়ছে না; ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মোস্তাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল কিনি; কিন্তু ১০০০ টাকা দেওয়ার পরও আমাকে ৮০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে। এটা সরাসরি প্রতারণা।’

আরেক ভুক্তভোগী সোহান আলী বলেন, ‘আমার ছেলে ৪১৯০ টাকার ডিজেল কিনেছে। পাম্পের কর্মচারীকে ৪৫০০ টাকা দিলে ১৫০ টাকা ফেরত দেয়; বাকি ১৬০ টাকা চাইতে গেলে বলে—মহাজনকে বলেন। পরে মহাজনের কাছে গেলে বাকি টাকাও ফেরত দেয়। এই হলো এই পাম্পের অবস্থা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ওই পাম্পের মালিকদের ব্যবহার প্রচণ্ড খারাপ; তারা গ্রাহকদের সঙ্গে মোটেও ভালো আচরণ করেন না।

স্থানীয়দের দাবি—অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, না হলে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই ‘প্রকাশ্য লুটপাট’ চলতেই থাকবে। এছাড়া জ্বালানি খাতে অনিয়ম আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী অলেমানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’