প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি, উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

সারা দেশে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধান, ভুট্টা, পাট ও গ্রীষ্মকালীন সবজি। উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মৌসুমি চাষিরা। গত কয়েক দিনে চাঁদপুরের এক উপজেলাতেই ৪৪৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছে কৃষি অফিস।
সবশেষ গত রোববার রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পর চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মাঠ-পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
উপজেলার দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের ভুট্টাচাষি আব্দুল হান্নান শিকদার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঝড়ে আমার জমির সব ভুট্টা গাছ হেলে পড়েছে। উৎপাদন খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন বোরো ধানের মাঠে ধান পাকতে শুরু করেছে। কেউ কেউ ধান কাটা শুরু করেছেন। আবার অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক কৃষক ধান কেটে জমিতে রেখেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে বোরো ধান ৩২০ হেক্টর, ভুট্টা ৫০ হেক্টর, পাট ২০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ৫০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা ৫ হেক্টর, তিল ৫ হেক্টর এবং গ্রীষ্মকালীন মুগ ৫ হেক্টর রয়েছে।
ওঠারচর গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান সরকার বলেন, গত কয়েক বছরের পর এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। কিন্তু রোববার রাতের শিলাবৃষ্টির কারণে আমার জমির প্রায় ২০ শতাংশ পাকা ধান পড়ে গেছে। ধান কাটার উপযুক্ত সময় ছিল। এখন বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাট চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, এবার নতুন করে পাটের চাষ করেছি অনেক আশা নিয়ে। কিন্তু ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে পাট গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে গেছে। ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৪৪৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠ-পর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের দ্রুত কাটা ধান নিরাপদ স্থানে নেওয়া, ভুট্টা সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।