logo
Advertisement

রংপুরে ৪ খুনের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে ‘মবের’ শিকার সাংবাদিক

এশিয়া পোস্ট নিউজ,রংপুর
রংপুরে ৪ খুনের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে ‘মবের’ শিকার সাংবাদিক
হামলার ঘটনার পর নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে দাড়িয়ে সাংবাদিকদের মৌন প্রতিবাদ। ইনসেনেট সাংবাদিক সেলিম সরকার। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছোয়াপাড়ার আলোচিত চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে এক সাংবাদিককে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে উসকানি দিয়ে জড়ো করে জাতীয় দৈনিক ‘খবরের কাগজ’-এর প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে হেনস্তা করেন বলে জানা গেছে।

Advertisement

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে কামালকাছনা সংলগ্ন বৈরাগীপাড়া এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

হেনস্তার শিকার সাংবাদিক সেলিম সরকার জানান, চাঞ্চল্যকর চার খুনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য সহকর্মীদের নিয়ে শনিবার বিকেলে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরবর্তীতে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকার দিকে যাওয়ার সময় অভিযুক্তের ভাই পার্থ দাস আকস্মিক তার মোটরসাইকেলের গতিপথ রোধ করেন এবং জোরপূর্বক চাবি কেড়ে নেন।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার পর পার্থ দাস উচ্চশব্দে চিৎকার করে স্থানীয়দের জড়ো করেন এবং ওই সাংবাদিকের ব্যাগে ‘সন্দেহজনক কিছু রয়েছে’ বলে জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে উগ্র আচরণ শুরু করলে ঘটনাস্থলে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাধারণ মানুষের সামনেই সাংবাদিকের ব্যাগ তল্লাশি করলে পেশাগত ব্যবহারের আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছুই পাননি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেন জানান, পার্থ দাস সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে সংবাদকর্মীকে হেনস্তা করেছেন। উপস্থিত অন্য সাংবাদিকরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি উল্টো সবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রথম দিন থেকেই অভিযুক্তের পরিবার ও তার ভাই পার্থ দাস একেক সময় একেক ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। তাদের এসব পরষ্পরবিরোধী মন্তব্যের কারণ জানতে চাইলেই তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হচ্ছেন। মূলত সংবাদকর্মীরা যাতে নিরপেক্ষ তথ্য প্রকাশ করতে না পারেন, সে জন্যই এই বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন জানান, সাংবাদিক সেলিম সরকারকে আটক রেখে হেনস্তা করার খবর পেয়ে ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে ওই সাংবাদিকের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে পেশাগত প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই পাননি।

বিষয় :