logo

৩০ বছর পর শরীয়তপুরে নৌকা বাইচ, মানুষের ঢল

৩০ বছর পর শরীয়তপুরে নৌকা বাইচ, মানুষের ঢল
৩০ বছর পর শরীয়তপুরে নৌকা বাইচ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

৩০ বছর পর শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে নেমেছিল হাজারো মানুষের ঢল। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সদর উপজেলার তেতুলিয়া থেকে আড়িগাঁও পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষ নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে এসে উপভোগ করেন গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। নদীর দুই পাড় ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন দর্শনার্থীরা।

বিকেল ৩টার দিকে শুরু হয় নৌকা বাইচের ফাইনাল রাউন্ড। বৈঠার তালে তালে একে একে নদীর বুকে ছুটতে শুরু করে ১৪টি নৌকা। মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার আঘাতে মুহূর্তেই গতি বাড়তে থাকে নৌকাগুলোর। প্রতিযোগিতা যত এগিয়ে যায়, দর্শকদের উচ্ছ্বাসও তত বাড়তে থাকে। পছন্দের নৌকাকে উৎসাহ দিতে নদীর দুই পাড় থেকে করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের উদ্যোগে নৌকা বাইচের প্রথম রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। দুই ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে শুক্রবার কীর্তিনাশা নদীতে অনুষ্ঠিত হয় ফাইনাল রাউন্ড।

ফাইনাল প্রতিযোগিতায় আমগ্রাম এক্সপ্রেস প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সাত সমাজ এক্সপ্রেস ১। তৃতীয় স্থান অর্জন করে মামা ভাগ্নে এক্সপ্রেস।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে নৌকা বাইচ উপলক্ষে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপস্থিত ছিল মেডিকেল টিম। এ ছাড়া দুর্ঘটনা বা জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ টিমও প্রস্তুত ছিল।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা সুমন ঠাকুর বলেন, দীর্ঘদিন পর কীর্তিনাশা নদীতে এমন আয়োজন হওয়ায় আমরা আনন্দিত। একসময় গ্রামবাংলার বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হলেও নানা কারণে ধীরে ধীরে এ আয়োজন কমে গেছে। প্রায় তিন দশক পর কীর্তিনাশায় নৌকা বাইচ হওয়ায় পুরোনো সেই ঐতিহ্য ফিরে এসেছে। আমরা চাই সামনে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হোক, তাহলে এটি আমাদের জন্য একটি বিনোদনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে।

আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয়েই এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নৌকা বাইচের মতো হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাও আমাদের উদ্দেশ্য। যুবসমাজকে মাঠে ফেরাতে সামনে আমাদের হাডুডু টুর্নামেন্টের আয়োজন রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নৌকা বাইচ শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসিরউদ্দিন কালু, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার, সিরাজুল হক মোল্লা, শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, বি এম হারুন অর রশিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল খান, মহিউদ্দিন বাদল বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম তালুকদারসহ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।