খবরের দৌড় থামিয়ে এক দিনের মিলনমেলায় নারায়ণগঞ্জের টিভি সাংবাদিকরা

সারা বছর সংবাদ সংগ্রহ, ঘটনাস্থলে ছুটে চলা ও সংবাদ পাঠানোর ব্যস্ততার বাইরে এক দিনের জন্য আনন্দ-আড্ডায় মেতে উঠলেন নারায়ণগঞ্জের টেলিভিশন সাংবাদিকরা। ‘একসঙ্গে পথচলা, একসঙ্গে ভালো থাকা’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী ও আনন্দ ভ্রমণ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বালুরচর এলাকার আনন্দ রিভারভিউ পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির বর্তমানে সদস্য ৩৭ জন। আয়োজনে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরাও অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনে খেলাধুলা, আড্ডা ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড ছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা।
নারায়ণগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনিসুর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী সৈকতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহসান সাদিক শাওন, সিনিয়র ইকোনমিক রিপোর্টার ফজলুল বারী, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি বিল্লাল হোসেন রবিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানে আব্দুস সালাম বলেন, টেলিভিশন সাংবাদিকদের সার্বক্ষণিক ব্যস্ততার কারণে বিনোদনের সুযোগ খুবই কম। এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য আরও দৃঢ় করবে।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় না ছুটে সাংবাদিকদের সঠিক, নির্ভুল ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশনে আরও সতর্ক হতে হবে। সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদাত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা ও মান উন্নয়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেউ যেন এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাকে কলুষিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সাংবাদিক সমাজকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
দিনভর হাসি-আড্ডা, খেলাধুলা ও শুভেচ্ছা স্মারক বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে আয়োজন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততার বাইরে এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

