logo

চুরির গরু দিয়ে ইফতার মাহফিল, লজ্জায় দেশ ছাড়লেন প্রবাসী

চুরির গরু দিয়ে ইফতার মাহফিল, লজ্জায় দেশ ছাড়লেন প্রবাসী

সিলেটের ওসমানীনগরে চুরির গরু দিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতার বাড়িতে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে গরুটি যে চুরি করা তা জানতেন না ওই প্রবাসী। ঘটনা জানাজানির পর লজ্জায় দেশ ছাড়েন তিনি।

জানা গেছে, উপজেলার গলমুকাপন গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইউনাইটেড গলমুখাপন ট্রাস্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজাদ আহমদ সাদ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ মধু মিয়ার নেতৃত্বে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তার বাড়িতে ওই ইফতারের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাসহ প্রায় সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

ইফতারের আগের দিন একই গ্রামের নাজমুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির একটি গরু চুরি হয়। মধু মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদ গরুটি চুরি করে ওইদিন রাত ৮টার দিকে কসাই দিয়ে জবাইয়ের ব্যবস্থা করেন। সারা রাত গোশত রান্না করে পরদিন এলাকার সহস্রাধিক লোকের ইফতার পরিবেশন করা হয়। ইফতার মাহফিলে মেহমান হিসেবে গরুর মালিক নাজমুলও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জবাই করা গরুর দড়ি দেখে বুঝতে পারেন, তার গরু দিয়েই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে।

বিষয়টি গ্রামের লোকজনকে বললে মধু মিয়ার বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সবাই নিশ্চিত হন, নাজমুলের গরু দিয়েই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রামের মুরব্বীদের মধ্যস্থতায় নাজমুলকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয় এবং মধু মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। এ ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে লজ্জায় পরদিন শুক্রবার রাতেই দেশ ছাড়েন মধু মিয়া।

গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম বলেন, আমার গরু চুরি হওয়ার পর মধু মিয়ার কেয়ারটেকার সাঈদ আমাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন স্থানে গরুর সন্ধান করতে পাঠান। পরদিন আমি ইফতার মাহফিলে গিয়ে আমার গরুর দড়ি দেখে চিনে ফেলি। এরপর বিষয়টি লোকজনকে জানালে একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়ে সালিশের মাধ্যমে আমাকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা আহমেদ মধু মিয়া দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দয়ামীর ইউনয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর উদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।