বগুড়া থেকে ২৫ বছর পর মন্ত্রিসভায় শাহে আলম

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে রাজনীতির অঙ্গনে শুরু হয় পথচলা। এরপর দীর্ঘ ২৯ বছরের রাজনৈতিক পরিক্রমায় এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন বগুড়ার মীর শাহে আলম। তিনি বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মীর শাহে আলম। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা গেছে।
এর মধ্য দিয়ে ২৫ বছর পর বগুড়ার কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে এই জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান।
মীর শাহে আলম জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতার সাফল্যে গর্বিত বগুড়াবাসী।
বিএনপির জেলা নেতাদের কাছ থেকে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে উপজেলার আটমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মীর শাহে আলম। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। এরপর ২০০৯ সালে তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।
জেলার রাজনীতিকরা বলেন, বগুড়ায় অনেক স্বনামধন্য রাজনীতিকের জন্ম হলেও মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ার নজির কম। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তিনি বগুড়া সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর আর কেউ মন্ত্রিপরিষদে যেতে পারেননি।
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব বলেন, আমাদের উপজেলার মানুষ মীর শাহে আলম মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেয়েছেন। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমরা বিশ্বাস করি, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং মীর শাহে আলমের হাত দিয়ে বগুড়ার মানুষের উন্নয়ন হবে।
বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান বলেন, মীর শাহে আলম যখন আটমূল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৩। তিনি ছাত্ররাজনীতি করেছেন। সেখান থেকে আজকে তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। তৃণমূলের রাজনীতি থেকে মীর শাহে আলমের এই সাফল্য তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার।
আবু হাসান বলেন, বগুড়ার উন্নয়নের জন্য বগুড়ার মানুষের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ও মীর শাহে আলমের দক্ষতায় বগুড়ার উন্নয়ন হবে।