logo

ঈদে ঘুরে আসুন জামালপুরের সেরা দর্শনীয় স্থান

ঈদে ঘুরে আসুন জামালপুরের সেরা দর্শনীয় স্থান
ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি মানেই পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু স্বস্তির খোঁজে কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনা। ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহল পেছনে ফেলে প্রকৃতি, ইতিহাস, নদী আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে কিছুটা শান্ত সময় কাটাতে চলে আসুন উত্তরাঞ্চলের জনপদ জামালপুরে।

নদীমাতৃক সৌন্দর্য, গারো পাহাড়ের সবুজ আবহ, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে ভরপুর এই জেলা প্রতি ঈদেই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদকে ঘিরে গড়ে ওঠা মনোমুগ্ধকর পরিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করে বারবার। এ ছাড়া রয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ভ্রমণ স্থান।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য ঠিকানা গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত লাউচাপড়া পাহাড়িকা বিনোদন কেন্দ্র। সবুজ বনানী, পাহাড়ি পথ আর নির্মল পরিবেশে এখানে কাটানো সময় হয়ে ওঠে প্রশান্তির। লাউচাপড়া পিকনিক স্পট ও ‘মসজিদ-এ নুর’ দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে, যা পরিবার নিয়ে ঘুরে দেখার জন্য আদর্শ একটি জায়গা। প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফি প্রেমীদের কাছে এটি এখন অন্যতম জনপ্রিয় স্থান।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জামালপুর জেলা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত গান্ধী আশ্রম কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থানই নয়, বরং দেশের অতীত সংগ্রামের নীরব সাক্ষী হিসেবে আজও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। প্রতিদিনই এখানে ইতিহাস জানতে আগ্রহী মানুষজনের পদচারণা লক্ষ্য করা যায়।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

একইভাবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দয়াময়ী মন্দির এবং শাহ কামালের মাজার। ঈদের সময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশেও প্রাণ ফিরে পায় জামালপুর। দয়াময়ী মন্দির এবং শাহ কামালের মাজার হয়ে ওঠে ভক্ত ও পর্যটকদের মিলনস্থল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন ধর্মীয় অনুভূতি প্রকাশ করতে এবং মানসিক প্রশান্তি খুঁজে নিতে।

পরিবার নিয়ে আধুনিক বিনোদনের স্বাদ নিতে চাইলে ভ্রমণ করা যেতে পারে লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্কে। শিশুদের খেলাধুলা, বিনোদন ব্যবস্থা ও মনোরম পরিবেশের কারণে ঈদের ছুটিতে এখানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে কয়েক গুণ।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঈদের ছুটিতে অনেকেই ছুটে যান ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে। বিস্তীর্ণ বালুচর, নদীর স্নিগ্ধ বাতাস আর সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য যেন মুহূর্তেই ক্লান্তি দূর করে দেয়। বিশেষ করে বাহাদুরাবাদ ঘাট ও ঝিনাই নদীর তীর এখন স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। পরিবার নিয়ে নদীপাড়ে বসে সময় কাটানো, শিশুদের বালুচরে দৌড়ঝাঁপ কিংবা নৌকাভ্রমণ সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দ যেন এখানে আরও রঙিন হয়ে ওঠে।

জামালপুর ভ্রমণের আরেকটি বড় আকর্ষণ— ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতি। জেলার নকশিকাঁথা, বুড়িমার মিষ্টি, সরভাজা এবং পিঠালি খাবার দেশজুড়ে সমাদৃত। এ ছাড়া ইসলামপুরের কাঁসার বাসন, মেলান্দহের তামাক এবং মৃৎশিল্পও এই জেলার ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর ও গান্ধী আশ্রমের বোর্ড অব ট্রাস্টি হিল্লোল সরকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার পাশাপাশি গ্রামীণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর ঈদের সময় এখানে জ্ঞানান্বেষী ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আমরা পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।

লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্কের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান লুইস বলেন, প্রতিটি ঈদে জামালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর পর্যটক আমাদের এখানে ঘুরতে আসেন। ঈদুল আজহায় এবারও আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি, এবারও জামালপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে কয়েক হাজার পর্যটকের আগমন ঘটবে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

সব মিলিয়ে, নদী, পাহাড়, ইতিহাস আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপূর্ব সংমিশ্রণে জামালপুর ঈদের ছুটিতে ভ্রমণকারীদের জন্য হয়ে উঠেছে এক মনোরম ও সমৃদ্ধ গন্তব্য। পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে এই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ।