যুবদল নেতা হত্যার প্রতিবাদে মাগুরায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি শেষে ঢাকা-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়সংলগ্ন মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। কর্মসূচিতে জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের নেতারা ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলমগীর হোসেন ও আমিনুর রহমান খান পিকুল, সদর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. কুতুব উদ্দিন, বাস-মিনিবাস মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াশিকুর রহমান কল্লোল, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ। এ ছাড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ, সদস্যসচিব আব্দুর রহিম এবং জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী স্মৃতিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করলেও মূল অভিযুক্তরা এখনও গ্রেপ্তার হননি বলে দাবি করেন তারা। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা না হলে মাগুরা অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা মাগুরা-ঢাকা মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে শাকের হোসেনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মাথার পেছনে গুলির চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তের সময় মাথা থেকে একটি গুলি বের করা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে সাকের হোসেনের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান জোরদার করেছে।

