টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহতদের চারজনই পোশাকশ্রমিক, দাফন সম্পন্ন

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন এক পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে চারজন পোশাক কারখানার শ্রমিক। অন্য একজন নিহত নারী শ্রমিকের সন্তান।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধার নিজপাড়া গ্রামে একই পরিবারের তিনজনের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিহতদের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মরদেহ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
অন্য দুজনের জানাজা বাদ আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে তাদের মরদেহ নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত পাঁচজন হলেন— গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নীজপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তার ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) ও আব্দুর রশিদের মেয়ে রিফা (২৩)। নিরব বাদে সবাই টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক।
নিহত নার্গিসের মামাতো ভাই মোসাদ্দেকুর রহমান জানান, শুক্রবার সকালে নার্গিস তার ছেলে নিরবকে নিয়ে নিজপাড়া থেকে মাদারহাটে যান। সেখান থেকে একটি রিজার্ভ বাসে করে রাত ১০টার দিকে ঢাকায় রওনা দেন তারা। পরে রাতে খবর আসে, ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাদের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
ধাপেরহাট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন বলেন, একসঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যুতে পুরো ইউনিয়ন শোকে স্তব্ধ। আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের তেল শেষ হয়ে গেলে কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে মহাসড়কের পাশের রেললাইনে বসেছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান পাঁচজন।