চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ে ভুট্টা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি, বিপাকে কৃষক

সাম্প্রতিক আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভুট্টা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজার হাজার কৃষক, যাদের অনেকেই মৌসুমের প্রধান ফসল হিসেবে ভুট্টার ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের তীব্রতায় অনেক ক্ষেতেই ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে গাছের পাতা ও মোচা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে সদর, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি।
প্রাথমিক হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক হাজার হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষেত আংশিক বা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে অনেক কৃষক তাদের মৌসুমের প্রায় পুরো বিনিয়োগ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধারদেনা করে বীজ, সার, সেচ ও শ্রম খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন তারা। কিন্তু ঝড়ে ফসল নষ্ট হওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেকেই।
আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইথনপুর গ্রামের কৃষক লুতফর রহমান বলেন, এই ফসল দিয়েই আমরা সারা বছরের সংসার চালাই। ঋণ করে আবাদ করেছি, এখন ফসল নষ্ট হওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ সরকার জানান, ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। পাশাপাশি ঝড়ে পড়ে যাওয়া ভুট্টা গাছের পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা, স্বল্পসুদে ঋণ এবং বিকল্প ফসল চাষের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝড়-প্রতিরোধী ফসলের জাত নির্বাচন, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং কৃষি বীমা চালু বা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের ভুট্টার আবাদ করা হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।