logo

সীমান্তে শূন্যরেখায় বোনকে শেষ বিদায় জানালেন ভাই

সীমান্তে শূন্যরেখায় বোনকে শেষ বিদায় জানালেন ভাই

কাঁটাতারের বাধা পেরিয়ে এক অনন্য মানবিকতার নজির সৃষ্টি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিশেষ সৌজন্যে মৃত বাংলাদেশি বোন রেজিয়া বেগমকে (৭৫) শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেন ভারতের মালদা জেলায় বসবাসরত তার স্বজনরা।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় এই আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রিফুজিপাড়া গ্রামের মৃত সেতাব উদ্দিনের স্ত্রী রেজিয়া বেগম শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর ভারতের মালদা জেলার কালিয়াচক থানার শ্বশানী গ্রামে বসবাসরত তার চাচাতো ভাই মো. সোবাহান বোনকে শেষবার দেখার জন্য বিএসএফের কাছে আবেদন জানান।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বিষয়টি বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়নকে (৫৯ বিজিবি) অবহিত করলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক কারণে সাড়া দেয়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে আজমতপুর সীমান্তের ১৮০/১০-এস পিলার সংলগ্ন জিরো পয়েন্টে রেজিয়া বেগমের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতিতে ভারতীয় স্বজনরা কাঁটাতারের ওপার থেকে মরদেহটি দেখেন।

এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের প্রতি বিজিবি সর্বদা সহানুভূতিশীল। আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছি। সাধারণ মানুষের আবেগ ও সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমান্তবাসীর কল্যাণে বিজিবি এ ধরনের মানবিক কাজকে নিজেদের দায়িত্ব মনে করে।

এদিকে দাফনের পূর্বে স্বজনদের দেখার সুযোগ করে দেওয়ার এই উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়েও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। মরদেহ দেখার আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজ গ্রামেই রেজিয়া বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়।