logo

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ৩ জন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ তথ্যটি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে, শনিবার ভোর ৫টার দিকে ককটেল তৈরি করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই সদর উপজেলার রাণিহাটি ইউনিয়নের ওপর ধুমিহায়াতপুর এলাকার মোয়াজ্জেমের ছেলে আলামিন (২০) ও শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের মনিরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ (১৭) মারা যান। এ ছাড়া বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হওয়া বজলুর রহমান, মিনহাজ ও শুভকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহত বজলুর রহমান ও মিনহাজ হলো ককটেল তৈরির মূলহোতা দুলালের চাচা ও ভাতিজা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া এলাকার চান মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ (৪৫), একই ইউনিয়নের ফজর আলীর শাকিল (৩৭), ফাটাপাড়া গ্রামের বজলুর রহমান (২০) ও মিনহাজ (২২) এবং একই উপজেলার রাণিহাটি ইউনিয়নের উপরধুমি এলাকার শুভ (২০)।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে চরবাগডাঙ্গার ফাটাপাড়া এলাকায় কালামের বাড়িতে চলছিল ককটেল তৈরির কাজ। ককটেল তৈরি করার জন্য এলাকার বাইরে থেকে কারিগর নিয়ে এসেছিল কালামের ছোট ভাই দুলাল। তিনি মূলত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া দুলাল সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং একাধিক মামলার আসামি।

চরবাগডাঙ্গার চকপাড়ার বাসিন্দা বাবু বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য ককটেলগুলো তৈরি করছিল দুলাল। সে মূলত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।  

চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার জন্য বাইরে থেকে কারিগর নিয়ে এসে দুলাল তার ভাইয়ের বাড়িতে বোমা তৈরি করছিল। এই বোমা বিস্ফোরিত হয়। দুলাল মূলত মাদক ব্যবসায়ী এবং সে রাজশাহীতে থাকে। মাঝেমধ্যে এলাকায় আসে। নির্বাচনের পর এলাকায় আধিপত্য ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্যই সে বোমা বানাচ্ছিল।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বোমা বিস্ফোরণে আহত তিনজনও রয়েছেন।