logo

প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিক সিলগালা

প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিক সিলগালা

ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ‘ওয়ান স্টপ মেটারনিটি ক্লিনিকে’ নাঈমা আক্তার লিজা নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনার পর ক্লিনিকটি সিলগালা করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটি সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রসবব্যথা শুরু হলে লিজাকে প্রথমে লস্করহাটের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে শহরের ওয়ান স্টপ মেটারনিটি ক্লিনিকে আনা হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিজারের জন্য চাপ দেয় এবং ২২ হাজার টাকায় চুক্তিতে ওই রাতেই ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা তার অস্ত্রোপচার করেন।

​স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই লিজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বারবার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যায়। পরদিন শনিবার লিজার অবস্থার আরও অবনতি হলে এবং স্বজনরা চাপ সৃষ্টি করলে চিকিৎসকরা সটকে পড়েন। পরে তাকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নেওয়ার পথেই লিজার মৃত্যু হয়।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের একটি দল ক্লিনিকে অভিযান চালায়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্লিনিকের মালিক, চিকিৎসক ও নার্সসহ সকল কর্মচারী পালিয়ে যান।

​অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান জানান, ১৯৮২ সালের বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। 

​নিহতের স্বজন এমরান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় আজ শিশুটি এতিম হলো। আমাদের ধারণা, অপারেশনের সময় জরায়ু বা কিডনিসহ অন্য কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল, যা গোপন করার চেষ্টা করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এর আগেও এই ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিল। এবার অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।