দড়ি ধরে মসজিদে যাওয়া শতবর্ষী অন্ধ মুয়াজ্জিন মারা গেছেন

রশি ধরে ও বাঁশের সাহায্যে মসজিদে আজান দিতে যাওয়া নাটোরের বড়াইগ্রামের শতবর্ষী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা মারা গেছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
এর আগে, রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামে তার নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ যুগ আগে একটি দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন আব্দুর রহমান মোল্লা। এরপর থেকে তিনি বাড়িতেই সময় কাটাতেন। হাতে ছিল না কোনো কাজ। ঘটনার কয়েক বছর পর তার বড় ছেলের সহায়তায় পবিত্র হজ পালন করেন তিনি। হজ শেষে দেশে ফিরে স্থানীয় মসল্লিদের কথা চিন্তা করে তার নিজের ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং সে মসজিদে নিজেই মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব নেন।
কিন্তু সমস্যা বাধে তার দৃষ্টিহীনতা নিয়ে। দৃষ্টিহীন হওয়ায় বাড়ি থেকে প্রায় দেড় থেকে ২০০ মিটার দূরে মসজিদে যাওয়া-আসায় সমস্যা দেখা দেয়। পরে তিনি নিজেই একটি বুদ্ধি বের করে তার ছেলেদের জানান। তার এই অভিনব বুদ্ধির কথা শুনে তার পরামর্শে ছেলেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তায় রশি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেয়। সে রশি ও বাঁশ ধরে লাঠির সাহায্যে একাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আজান দিতে মসজিদে যেতেন তিনি। রোববার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।
আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে স্কুলশিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল বলেন, প্রথম দিকে কয়েকদিন তার নাতিরা দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে তাকে যাতায়াত ও রাস্তা পার হতে অভ্যস্ত করে তোলে। এছাড়া বাঁশ ও দড়ি খুঁজে পেতে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি লাঠিও। এভাবে কয়েক দিন দেখিয়ে দেওয়ার পর আর কারও সাহায্য নিতে হয়নি আব্বার।
এদিকে আব্দুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, বড়াইগ্রাম উপজেলার সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ ছিলেন তিনি। দুই চোখ অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রসারসহ মানুষকে ধর্মের পথে আনতে তিনি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তা সত্যিই বিরল। তার মৃত্যুতে সবাই গভীরভাবে মর্মাহত। আমি তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।