logo

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান, গুলিতে সেনা সদস্য নিহত

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান, গুলিতে সেনা সদস্য নিহত
আইএসপিআরের লোগো। ছবি: আইএসপিআরের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

কক্সবাজারের টেকনাফের গহিন পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. তিতাস শেখ (২৭) নামে সেনাবাহিনীর এক সৈনিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আস্তানায় জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টায় আইএসপিআর বাংলাদেশের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মো. তিতাস শেখের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আইএসপিআর জানায়, বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল আনুমানিক বিকেল ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসময় সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, ১টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, মানবপাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী ক্যাম্পে ১ বীর ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। তাঁর সেনা নম্বর ৪৫১৯৫১৭। প্রায় নয় বছর ধরে তিনি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, যৌথ বাহিনী কুখ্যাত ‘সাদ্দাম গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় এ অভিযান চালায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারী-পুরুষদের টেকনাফে এনে ওই আস্তানায় আটকে রাখা হয়েছিল। পরে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে তাদের সেখানে জড়ো করা হয়।

১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার এশিয়া পোস্টকে জানান, অস্ত্র উদ্ধার ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারে জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।