গভীর সমুদ্রে দুই জেলে গ্রুপের সংঘর্ষ, নিখোঁজ ২

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি ফিশিং ট্রলারে হামলা চালালে দুই জেলে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জেলে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এফবি মায়ের দোয়া নামে একটি ট্রলারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে আহত জেলেরা উপকূলে ফিরে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন, পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বেলায়েত গাজীর ছেলে মো. জসিম ও আজিজ বয়াতীর ছেলে হিরু বয়াতী।
আহত জেলেরা জানান, বুধবার রাতে তারা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিলেন। এ সময় ‘এফবি মুন্না’ নামে একটি অবৈধ কাঠের ট্রলিং বোট তাদের জালের ওপর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে ট্রলিং বোট থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
ট্রলারটির মাঝি মনির আকন বলেন, আমরা ট্রলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আরও তিনটি ট্রলিং বোট এসে আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এরপর ট্রলিংয়ের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ট্রলারে উঠে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
তিনি বলেন, হামলার একপর্যায়ে জেলে জসিম ও হিরু বয়াতী ভয়ে সাগরে ঝাঁপ দেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আহতদের উদ্ধার করা হলেও ওই দুই জেলের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান দোলন বলেন, হাসপাতালে আহত অবস্থায় তিনজন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাগেরহাটের দুটি অবৈধ কাঠের ট্রলিং বোট এই হামলা চালিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সমুদ্রে যদি নিরীহ জেলেরা এভাবে হামলার শিকার হন, তাহলে তাদের নিরাপত্তা কোথায়? জেলেরা হামলাকারী ট্রলার শনাক্ত করেছেন। আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।