আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ হলে জনগণকে নিয়ে মাঠে নামব: হুইপ বকুল

খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামব।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে খুলনায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হুইপ বকুল বলেন, আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী খুলনায় এসেছিলেন। তখন আমাদের দলের পক্ষ থেকে মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমিও সেখানে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেছেন, দ্রুত এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। সাধারণ মানুষের মন থেকে আতঙ্ক দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরনের অজুহাত শুনতে রাজি নন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান করবেন বলে তারা আশাবাদী। তা না হলে এলাকার সন্তান ও জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাকে সাধারণ মানুষকে নিয়ে মাঠে নামতে হবে। জনগণ একত্রিত হয়ে মাঠে নামলে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বকুল বলেন, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা ওষুধের দোকানও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে মানুষ মামলা করতে সাহস পাচ্ছেন না। তাহলে পুলিশ কী করছে? সন্ত্রাসীরা কি এভাবে পার পেয়ে যাবে? অপরাধী যে-ই হোক, যতবড় নেতা হোক কিংবা যার ছত্রছায়ায় থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। খুলনায় কোনোভাবেই সন্ত্রাসের দৌরাত্ম্য চলতে দেওয়া হবে না।
দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তৈরি পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার চেষ্টা করছে এই চক্র। তাঁর অভিযোগ, পতিত ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী দেশবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত।
সমবায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলেই দেশের সামগ্রিক পরিবর্তন সম্ভব। সমবায়ের মাধ্যমে দেশ গড়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থেকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম হাতিয়ার সমবায়ের মূলনীতি। এর দর্শন হলো কেউ পিছিয়ে থাকবে না, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমবায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তরুণ-তরুণীদের চাকরির আশায় বসে না থেকে সমবায়ের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। সবাই সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ, পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক, ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মো. নূরুন্নবী। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে জেলা সমবায় কর্মকর্তা জানান, খুলনায় বর্তমানে নিবন্ধিত সমবায় সমিতির সংখ্যা ২ হাজার ১৯টি। জেলার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাতটি শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতিকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন, সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শহিদ হাদিস পার্ক থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে খুলনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে শেষ হয়। পরে প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সমবায় বিভাগ ও জেলা সমবায় ইউনিয়ন যৌথভাবে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এবারের জাতীয় সমবায় দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। গত ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি থাকায় একদিন পর রোববার দিবসটি পালন করা হয়।
