যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

যশোর শহরের বকুলতলাস্থ মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে জেলা পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুনের ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে দুজন দুর্বৃত্ত স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন জ্বলে ওঠার পর তিন যুবককে স্মৃতিস্তম্ভের মূল বেদি থেকে নেমে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়। এসময় যুবককে ‘শেখ হাসিনা’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
সোমবার দুপুরে স্মৃতিস্তম্ভটিতে দেখা যায়, আগুন দেওয়ার কারণে পোড়ার কালো চিহ্ন দেখা গেছে। ঘটনার পর স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এদিকে, আগুন দেওয়ার দৃশ্য নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের কয়েকজন নেতা তাদের ফেসবুক পেজে প্রচার করেছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন যশোরের যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন এবং ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে দুজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকে। সোমবারও দুজন দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু রাতে দুই দুর্বৃত্ত স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে প্রবেশ করে আগুন দেয়। আগুন দেওয়ার পরেই তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্মৃতিস্তম্ভটির পাশে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে জড়িতদের আটক করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে।
