Advertisement

ঈদ এলেই প্রাণ ফিরে পায় কামারপল্লি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁদপুর
ঈদ এলেই প্রাণ ফিরে পায় কামারপল্লি
ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাঁদপুরের কামারশালাগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাঁদপুরের কামারশালাগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। ছুরি, চাপাতি, দা ও বঁটিসহ কোরবানির পশু জবাইয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও শান দিতে দিন-রাত কাজ করছেন কামাররা। টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে জেলার বিভিন্ন বাজারের কামারশালা।

Advertisement

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছেংগারচর, সুজাতপুর, নতুন বাজার, কালির বাজার, নন্দলালপুর, মতলব, নারায়ণপুর, মুন্সিরহাট ও নায়েরগাঁওসহ জেলার বিভিন্ন বাজারের কামারশালায় বিরামহীনভাবে চলছে কাজ। কেউ পুরোনো ছুরি ও চাপাতিতে শান দিচ্ছেন, কেউবা নতুন সরঞ্জাম তৈরি করছেন। অনেক কামার নতুন কাজের অর্ডার নেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন।

স্থানীয় কামাররা জানান, সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে বাড়ে কাজের চাপ। এই সময়ের আয় দিয়েই অনেক পরিবার বছরের বড় একটি সময়ের খরচ চালান। কাজের চাপ বাড়ায় অনেক জায়গায় মৌসুমি কামারও দেখা যাচ্ছে। যারা বছরের অন্য সময় ভিন্ন পেশায় থাকেন, তারাও ঈদ মৌসুমে আবার পুরোনো পেশায় ফিরেছেন।

সুজাতপুর বাজারের কামার রতন কুমার দাস জানান, প্রায় ২৭ বছর ধরে তিনি কামারের কাজ করছেন। আগে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হাঁসুয়া, কাস্তে, কোদাল ও কুড়াল তৈরির কাজ বেশি থাকলেও আধুনিক যন্ত্রপাতির কারণে সেই চাহিদা কমে গেছে। এখন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়।

তিনি আরও বলেন, ছোট ছুরি থেকে বড় চাপাতি পর্যন্ত শান দিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া নতুন ছুরি ও চাপাতি ৫৫০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এসব সরঞ্জাম কোরবানির পশু জবাইয়ের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহার করা হয়।