logo

জীবিত অবস্থায় স্ত্রীর চিকিৎসা না করানোর অভিযোগ সেই স্বামীর বিরুদ্ধে

জীবিত অবস্থায় স্ত্রীর চিকিৎসা না করানোর অভিযোগ সেই স্বামীর বিরুদ্ধে

কুমিল্লার সদর উপজেলায় দ্বিতীয় বিয়েতে যাওয়ার পথে প্রথম স্ত্রীর কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন এক ব্যক্তি। এ সময় তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) উপজেলার বালুতুপা এলাকার ওমর হোসেন রিয়াদ নামের ওই ব্যক্তি বর সাজে দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হন। পথে একটি কবরস্থানের সামনে এসে তিনি গাড়ি থামান। পরে একমাত্র কন্যাসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম স্ত্রীর কবর জিয়ারত করেন।

ওই ভিডিও দেখে মরহুম স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ‘ভালোবাসার নিদর্শনে’ আপ্লুত হন নেটিজেনরাও। সংবাদ প্রকাশ হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও।

তবে সেই যুবক রিয়াদের বিরুদ্ধে জীবিত অবস্থায় স্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা না করানোর অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর পর স্ত্রীর কবরকে কেন্দ্র করে ভিডিও তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছে মৃত স্ত্রীর পরিবার।

জানা গেছে, ভালোবাসার সম্পর্কের জেরে পরিবারের অমতে ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই বিয়ে করেন ওমর হোসেন রিয়াদ। শুরুতে অভাব-অনটনের মধ্যে তাদের সংসার চলছিল। তাদের ঘরে একটি সন্তান হয়। তবে দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময় অশান্তি লেগেই ছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।

চুমকির পরিবারের দাবি, সামান্য বিষয় নিয়েও প্রায়ই ঝগড়া হতো। তাকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না, এমনকি পচা খাবার গরম করে খাওয়ানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একাধিকবার তাকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়, কিন্তু স্বামীর পক্ষ থেকে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

চুমকির বড় ভাই পাবেল হোসেন বলেন, বোনের চিকিৎসার জন্য তিনি নিজের মোটরসাইকেল পর্যন্ত বিক্রি করেন। পরিবারের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মারা যান চুমকি।

অভিযোগ রয়েছে, চুমকির মৃত্যুর বছর না পেরোতেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন রিয়াদ। এরপর নতুন স্ত্রীকে নিয়ে চুমকির কবর জিয়ারতের সময় কান্নার দৃশ্য ধারণ করে টিকটক ও ফেসবুকে প্রচার করেন রিয়াদ। 

পরিবারের ভাষ্য, এসব ভিডিও পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে এবং মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য।

পাবেল হোসেন বলেন, ‘আমার বোনের চিকিৎসা ঠিকভাবে করা হয়নি। এখন সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার জন্য কবর নিয়ে নাটক করছে। আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

স্থানীয় এক মসজিদ কমিটির সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটির চিকিৎসার জন্য তার পরিবার অনেক টাকা খরচ করেছে। কিন্তু স্বামী হিসেবে তার (রিয়াদ) দায়িত্ব পালনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

তবে ওমর হোসেন রিয়াদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তিনি বিয়ের সময় পাওয়া গয়না বিক্রি করেছেন এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।