ফের মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও

দ্বিতীয় দিনের মতো জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করেছেন স্থানীয় কয়েকটি সমবায় সমিতির গ্রাহকরা।
ঘেরাওয়ের কারণে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর থেকে উপজেলা পরিষদসহ ২৩টি দপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এদিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সমিতির গ্রাহকরা।
সমিতিতে আমানতকৃত অর্থ উদ্ধার আন্দোলন কমিটির ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দুপুরের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে পরিষদের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে রাখেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, কয়েক বছর ধরে টাকা ফেরতের জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে আসছেন। সমিতিগুলোর মালিকপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও টাকা ফেরতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্দোলন কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সোমবার থেকে তারা আবার রাজপথে নেমেছেন। যতদিন পর্যন্ত তারা টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা না পাবেন, ততদিন এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
জেলা সমবায় কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, গ্রাহকের ৭৩০ কোটি টাকা সমিতিগুলোতে ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দাবি, ২৩টি সমিতির মধ্যে আল-আকাবা, শতদল, স্বদেশ, নবদীপ, হলিটার্গেট ও রংধনু অন্যতম। ছয়টি সমিতির কাছে জমা আছে ৭০০ কোটি টাকার বেশি।
মাদারগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী, প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সমিতিগুলোতে আছে। এ ছাড়া ইসলামপুর, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী ও জামালপুর সদরে কয়েক হাজার গ্রাহক আছেন।
আন্দোলন কমিটির মুখ্য সংগঠক শিবলুল বারী বলেন, দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন চলছে। স্থানীয় প্রশাসন টাকা ফেরতে উদ্যোগ গ্রহণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, আন্দোলনকারীরা আলোচনাও করতে চান না। আন্দোলনকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। কোনো ধরনের সেবা প্রার্থীদের অফিসে ঢুকতেও দিচ্ছেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।






