দরজা ভেঙে ব্যবসায়ীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নার্গিস বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কানখড়দী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নার্গিস বেগম ওই গ্রামের বেকারি ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম মল্লিকের স্ত্রী।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বেকারি কারখানার কাজ শেষে বাড়িতে ফেরেন জাহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় স্ত্রী নার্গিস বেগমকে ঝুলন্ত দেখতে পান তিনি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে বোয়ালমারী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম মল্লিক জানান, আগের রাতে তারা স্বামী-স্ত্রী একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। সকালে তিনি বাড়ির পাশের বেকারি কারখানায় কাজে যান। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে তা ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নার্গিস বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পরিবারের ধারণা, অসুস্থতাজনিত মানসিক চাপ থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।
অন্যদিকে নিহতের ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, তার বোন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই। প্রশাসনের সহযোগিতায় মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করতে চান তাঁরা।
বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ আব্দুর রশীদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তার দীর্ঘদিনের অসুস্থতার বিষয়টি জানা গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলছ।
