logo

বগুড়ায় বাসচাপায় নারী নিহত, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

বগুড়ায় বাসচাপায় নারী নিহত, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

বগুড়ার শাজাহানপুরে বাসচাপায় গুরুতর আহত চামুলি বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। একই দুর্ঘটনায় তার আড়াই বছর বয়সি ছেলে সোয়াদের দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চামুলি। 

চামুলি বেগম বেতগাড়ী উত্তর পাড়ার জুয়েলের স্ত্রী। দুর্ঘটনায় চামুলির মেয়ে নিহা (৮) আহত হয়। তবে সে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। 

নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে বাজার করে দুই সন্তানকে নিয়ে রিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন চামুলি বেগম। শাজাহানপুরের বেতগাড়ি মোড় এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী বাস তাদের রিকশাকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। ​সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে চামুলি বেগম যান। 

নিহতের ছোট বোন সুমাইয়া বলেন, আমার বোন মারা গেছে। তার ছেলের দুটো পা কেটে ফেলতে হয়েছে। ও এখনও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে আছে। তার অবস্থা ভালো না। আমার এর বিচার চাই। আর কারও প্রাণ যেন এভাবে না হারায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের এই বেতগাড়ি মোড় এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগেও এখানে মানুষ মারা গেছে। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইওভার দাবি করে আসা হচ্ছে। কিন্তু সড়ক বিভাগ আমাদের এ দাবি আমলে নিচ্ছে না। আমরা চাই এইখানে একটি ফ্লাইওভার করে দেওয়া হোক এবং এখানে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হোক। 

এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে দুই পাশের অসংখ্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লেগে যায়। অবরোধে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন তার ব্যক্তিগত গাড়িসহ আটকা পড়েন। পরে তিনি গাড়ি থেকে বের হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এলাকাবাসীর দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসের ভিত্তিতে সাড়ে ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে শাহজাহানপুর থানার এস আই আলমগীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় ঘাতক বাস হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে আছে। যেহেতু ঘটনাটি হাইওয়ে পুলিশের তাদেরকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।