logo
Advertisement

ভারতীয় গরু প্রবেশ না করায় স্বস্তিতে শেরপুরের খামারিরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজশেরপুর
ভারতীয় গরু প্রবেশ না করায় স্বস্তিতে শেরপুরের খামারিরা
ছবি : এশিয়া পোস্ট

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে শেরপুর সীমান্ত দিয়ে এবার ভারতীয় গরু প্রবেশ না করায় স্বস্তি ফিরে এসেছে জেলার ছোট-বড় খামারিদের মাঝে। দীর্ঘদিন ধরে কোরবানির মৌসুমে ভারতীয় গরু প্রবেশের কারণে লোকসানের মুখে পড়তে হলেও এবার দেশীয় গরুর বাজার নিয়ে আশাবাদী তারা।

তবে শেষ মুহূর্তে যেন সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

জানা গেছে, মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তপথে প্রতি বছরই কোরবানির মৌসুমে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে থাকে। এতে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন এবং অনেক সময় লোকসানের মুখে পড়তে হয়।

ভায়াডাঙ্গা ও কর্ণঝোড়া পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ভারতীয় গরুর উপস্থিতি নেই। হাটজুড়ে কেবল দেশীয় গরুই ওঠানো হয়েছে। এতে খামারিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সিংগাবরুনা এলাকার ছোট খামারি লতিফ মিয়া বলেন, সারা বছর কষ্ট করে গরু লালন-পালন করি। খাদ্যের দামও এখন অনেক বেশি। কিন্তু ঈদের সময় ভারতীয় গরু এলে আমাদের গরুর দাম পড়ে যায়। এবার সেটা না থাকায় আমরা কিছুটা স্বস্তিতে আছি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসন কঠোর থাকলে ন্যায্যমূল্য পাবো বলে আশা করছি।

একই এলাকার আরেক খামারি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, আমরা ঋণ করে গরু পালন করি। কিন্তু ভারতীয় গরু এলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। সীমান্তে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

কর্ণঝোড়া পশুর হাটের ইজারাদার আব্দুর রাজ্জাক জানান, এবার হাটে কোনো ভারতীয় গরু আসেনি। দেশীয় গরুর সরবরাহও পর্যাপ্ত রয়েছে এবং ক্রেতাদের আগ্রহও ভালো।

ভায়াডাঙ্গা বাজারের ইজারাদার আশু মিয়া বলেন, হাটে নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে যাতে কোনো অবৈধ গরু প্রবেশ না করে।

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, এবার জেলায় ২০টি প্রধান পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ১৮টিতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। চাহিদার তুলনায় বেশি গরু উৎপাদন হয়েছে বলে তিনি জানান।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা এশিয়া পোস্টকে বলেন, সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। কোনোভাবেই অবৈধ গরু প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।