logo
Advertisement

ঘেরের জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে জাকিরের চমক

এশিয়া পোস্ট নিউজ,বাগেরহাট
ঘেরের জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে জাকিরের চমক
লতানো গাছে ঝুলছে ছোট-বড় অসংখ্য তরমুজ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

চারপাশে মাছের ঘের। ঘেরের পাশে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ৪০ শতক অনাবাদি জমি। সেই জমিই এখন সবুজে ছেয়ে গেছে। লতানো গাছে ঝুলছে ছোট-বড় অসংখ্য তরমুজ। আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে তরমুজ চাষ করে প্রথম বছরেই আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন বাগেরহাটের তরুণ উদ্যোক্তা মো. জাকির হোসেন। তার ক্ষেত দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

Advertisement

বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের বটতলা বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৪০ শতক জমিতে তিন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন জাকির। জাতগুলো হলো—‘স্মার্ট বয়’, ‘সূর্য ডিম’ ও ‘কার্নিয়া’। তরমুজের পাশাপাশি জমির চারপাশে কাঁচামরিচ, ওলকচু, উন্নত জাতের পেঁপে, টমেটোসহ আরও কয়েক ধরনের ফসল পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন তিনি।

জানা গেছে, ৪০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি তরমুজের চারা রোপণ করেছেন জাকির। প্রতিটি গাছে দুটি করে ফল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি তরমুজ উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। তবে উন্নত মান ও আকারের ফল নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ফল দেখা দিলে সেগুলো অপসারণ করা হবে।

তিন জাতের তরমুজে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তা মো. জাকির হোসেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট
তিন জাতের তরমুজে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তা মো. জাকির হোসেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

উদ্যোক্তা মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি শহরে ব্যবসা করেন। ব্যবসার পাশাপাশি বেমরতা বটতলা বাজার এলাকায় তার একটি মাছের ঘের রয়েছে। ঘেরের পাশে প্রায় ৪০ শতক জমি দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে ছিল। জমিটি কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষের ধারণা নেন। পরে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে সেখানে তিন জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন।

তিনি জানান, তিন জাতের তরমুজই বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। প্রথম বছর হিসেবে ফলন ভালো হয়েছে। চাষ থেকে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি। তার ক্ষেত দেখে এলাকার অনেক কৃষক তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে এ অঞ্চলে তরমুজ চাষ আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একই জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তরমুজের পাশাপাশি কাঁচামরিচ, ওলকচু, উন্নত জাতের পেঁপে ও টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

ক্ষেত দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে জাকিরের তরমুজ চাষ দেখে তার ভালো লেগেছে। এলাকায় এভাবে তরমুজ চাষ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলনও ভালো হয়েছে। জমি নির্বাচন, পরিচর্যা ও চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে আগামী মৌসুমে তিনিও তরমুজ চাষের কথা ভাবছেন।

পাইকারি ব্যবসায়ী মিলন শেখ বলেন, তরমুজগুলো আকারে সুন্দর ও দেখতে আকর্ষণীয়। ফলন ভালো হলে স্থানীয় বাজারে এগুলোর চাহিদা তৈরি হতে পারে। এ সময়ে বাজারে তরমুজের সরবরাহ কম থাকায় ভালো মানের তরমুজ পাওয়া গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই লাভবান হবেন।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, পতিত ও অব্যবহৃত জমিকে কৃষির আওতায় এনে বহুমুখী উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকের আয়ও বাড়বে। মাছের ঘেরের পাশাপাশি ফাঁকা জমিতে জাকির হোসেনের তরমুজ চাষের উদ্যোগটি সম্ভাবনাময়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আবাদ সম্প্রসারণেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বিষয় :