logo

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন কুমিল্লার ১২টি দর্শনীয় স্থানে

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন কুমিল্লার ১২টি দর্শনীয় স্থানে
ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে স্বল্প খরচে ঘুরে আসতে পারেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শহর কুমিল্লা। ঢাকা থেকে বাস কিংবা ট্রেনে সহজেই কুমিল্লায় পৌঁছানো সম্ভব। এরপর জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে অল্প খরচে ঘুরে দেখা যাবে ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধন।

ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী বাসে জনপ্রতি ভাড়া পড়তে পারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। এছাড়া চট্টগ্রামগামী অধিকাংশ আন্তঃনগর ট্রেন কুমিল্লা রেলস্টেশনে থামে। ট্রেনের শ্রেণিভেদে ভাড়া ১৭০ থেকে ৪৬৬ টাকার মধ্যে।

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে অটোরিকশা কিংবা স্থানীয় পরিবহনে মাত্র ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই কোটবাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় যাওয়া-আসা করা যায়। কুমিল্লায় যেসব দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে পারেন-

শালবন বৌদ্ধ বিহার

কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত প্রাচীন শালবন বৌদ্ধ বিহার ছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। চারদিকে শালগাছ থাকায় এর নাম হয় শালবন বিহার। এখানে রয়েছে ১৫৫টি কক্ষ। খননকাজে পাওয়া গেছে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, ব্রোঞ্জের মূর্তি, তাম্রলিপি ও অসংখ্য টেরাকোটা নিদর্শন।

ময়নামতি জাদুঘর

সালমানপুরে অবস্থিত ময়নামতি জাদুঘরে রয়েছে ৪২টি গ্যালারি। এখানে সংরক্ষিত আছে প্রাচীন মূর্তি, মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, পান্ডুলিপি ও মৃৎশিল্পের নিদর্শন। শালবন বিহারের পাশেই হওয়ায় একইসঙ্গে দুটি স্থান ঘুরে দেখা যায়।

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণে নির্মিত আন্তর্জাতিক সমাধিক্ষেত্র এটি। এখানে ৭৩৭ জন সৈনিকের কবর রয়েছে। সবুজে ঘেরা শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

ধর্মসাগর দিঘি

কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ধর্মসাগর দিঘি জেলার অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র। দীঘির পাড়ে হাঁটা, নৌকা ভ্রমণ ও পাশের শিশুপার্ক দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেয়।

শাহ সুজা মসজিদ

গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত শাহ সুজা মসজিদ কুমিল্লার অন্যতম প্রাচীন মসজিদ। মোগল আমলের এই স্থাপনাটি ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। শাহ সুজা মসজিদ ৩৫২ বছর ধরে কুমিল্লায় জেলায় স্ব মহিমায় টিকে আছে। এ মসজিদের নামকরণ, প্রতিষ্ঠাতার নাম ও প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও এ মসজিদ যে পাক ভারত উপমহাদেশের প্রাচীন মসজিদ গুলোর মধ্যে অন্যতম সে বিষয়ে কারো সন্দেহ নেই।

নব শালবন বিহার

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি শান্তি বিহার হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার সোনালি বুদ্ধমূর্তি।

ইটাখোলা মুড়া

সপ্তম বা অষ্টম শতকের প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার ইটাখোলা মুড়া প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এখানেও পাওয়া গেছে স্বর্ণ-রৌপ্য মুদ্রা ও প্রাচীন নিদর্শন।

বার্ড

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বা বার্ড সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশের জন্য পরিচিত। বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানটি পিকনিক ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয়।

রূপবান মুড়া

কিংবদন্তির রহিম-রূপবানের স্মৃতিবিজড়িত রূপবান মুড়া সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিখ্যাত। উঁচু টিলা থেকে চারপাশের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

আনন্দ বিহার

উপমহাদেশের সর্বশেষ বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত আনন্দ বিহার ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।

রানি ময়নামতির প্রাসাদ

চন্দ্র বংশের রাজা মানিক চন্দ্র তার স্ত্রী রানি ময়নামতির জন্য এই প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। খননের মাধ্যমে এর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৮ সালে।

ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক

কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই পার্কটি ওয়াটার পার্ক, থ্রিল রাইড, ডাইনোসর জোন ও পিকনিক স্পটের জন্য বেশ জনপ্রিয়। পরিবার, বন্ধু কিংবা শিশুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য এটি কুমিল্লার অন্যতম বড় বিনোদন কেন্দ্র।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুমিল্লা জোনের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোস্তফাফিজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঈদের দিন থেকে আমাদের কয়েকটি টিম ট্যুরিস্টের নিরাপত্তার সেবায় নিয়োজিত থাকবে। বিশেষ করে কোটবাড়ি, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি ও ধর্মসাগর পাড়সহ আশপাশের পর্যটনগুলোতে আমাদের অবস্থান থাকবে।

কুমিল্লা ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান শাহীন আলম বলেন, জেলার প্রত্ননিদর্শনগুলো সংরক্ষণ ও পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নিয়মিত উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।