ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশির

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সেখানে একটি কনফেকশনারি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনায় দুই পরিবারে চলছে মাতম।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকালে তাদের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহত মনোহার আলীর ভায়রা মিলন সর্দার।
নিহতরা হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মণ্ডলের ছেলে মনোহার আলী (৩৫) এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি এলাকার মরহুম আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে বজলু (৪০)।
স্থানীয় ও পারিবার জানায়, মনোহার আলী প্রায় চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে ইরাকে পাড়ি জমান। বৈধ পারমিট বা আকামা না থাকায় বিভিন্ন সাপ্লাইয়ের কাজ করে কষ্টে পরিবারের খরচ চালাতেন। বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণের বোঝা চার বছরেও শোধ করতে পারেননি তিনি। এর মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
একই দিন সকালে ঘূর্ণিঝড়ে তাদের বসতঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছে পরিবারটি।
অপরদিকে, একই দুর্ঘটনায় নিহত বজলুও প্রায় দেড় বছর আগে কর্মসংস্থানের আশায় ইরাকে যান। ঋণ করে বিদেশে গেলেও পরিবারের আর্থিক অবস্থার তেমন উন্নতি করতে পারেননি। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।
নিহত মনোহার আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, রোববার বিকালেও আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। ভোরে ইরাক থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয়, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এখন সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বাঁচবো বুঝতে পারছি না। ঝড়ে ঘরটাও নিয়ে গেল। সরকারের কাছে স্বামীর মরদেহ দেশে আনার অনুরোধ জানান তিনি।
বজলুর স্ত্রী আখি আক্তার বলেন, রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে শেষবারের মতো তার সঙ্গে কথা হয়। ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নিয়েছেন, দেশে ফেরার কথাও বলেছেন। হঠাৎ ফোন দিয়ে বলে সে মারা গেছে। সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে’।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি ইরাকে মাদারগঞ্জের দুইজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। লাশ দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে পরিবারের প্রতি আমার বার্তা, তারা যেন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব, যেন লাশগুলো দেশে আনার ব্যাপারে দূতাবাসকে চিঠি দেওয়া হয়’।
