নতুন জামা আর ভালো খাবার, তবুও অপূর্ণ ঈদ

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই পরিবার। কিন্তু সেই চিরচেনা আনন্দের রং সবার জীবনে সমানভাবে ধরা দেয় না। কুড়িগ্রামের শিশু পরিবার (বালক) কেন্দ্রে আশ্রিত প্রায় ৬০ জন এতিম ও স্বজনহারা শিশুর কাছে ঈদের অর্থ একটু ভিন্ন।
এই কেন্দ্রে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের কেউ হারিয়েছে তাদের বাবাকে, আবার কেউ কেউ হারিয়েছে মা-বাবা দুজনকেই। জীবনের কঠিন বাস্তবতা খুব অল্প বয়সেই ছুঁয়ে গেছে তাদের। ফলে ঈদের আনন্দ এলেও তা চার দেয়ালের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
জানা গেছে, সরকারি উদ্যোগে এসব শিশু-কিশোরদের জন্য নতুন জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের দিন থাকছে বিশেষ খাবারের আয়োজনও। সবকিছু মিলিয়ে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। তবুও একটা অপূর্ণতা থেকেই যায়; এসব আয়োজন কি কখনো পূরণ করতে পারে মা-বাবার ভালোবাসার শূন্যতা?
যখন দেশের অন্যান্য শিশুরা নতুন জামা পরে বাবার হাত ধরে ঈদের নামাজে যায়, মায়ের বানানো খাবার খায়, আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে, তখন এই শিশুরা নিজেদের ছোট জগতেই সীমাবদ্ধ থাকে। নেই নতুন জামা দেখানোর উচ্ছ্বাস, নেই মায়ের মমতা কিংবা বাবার স্নেহভরা স্পর্শে ভেজা সকাল।
কেন্দ্রের আশ্রিত একাদশ শ্রেণির ছাত্র বিপুল বলে, ‘ঈদে নতুন কাপড় পাই, ভালো খাবারও খাই। কিন্তু সবাই যখন মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে যায়, তখন মা-বাবাকে খুব মনে পড়ে। যদিও এখানে স্যাররা আমাদের সন্তানের মতোই দেখাশোনা করেন।’
চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র সজীব বলে, ‘ঈদে আমাদের নতুন শার্ট-প্যান্ট দেওয়া হয়েছে। আমরা এখানে ভালোভাবেই থাকি। স্যার-ম্যাডামরা বাবা-মায়ের মতো যত্ন নেয়।’
কেন্দ্রটির সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের এখানে থাকা শিশু-কিশোরদের ঈদ আনন্দময় করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তাদের জন্য বিশেষ খাবার, বিনোদনসহ নানা আয়োজন রাখা হয়। আমরা সবাইকে নিজের সন্তানের মতোই দেখি।
তিনি বলেন, আমাদের এই পরিবার থেকে অনেকেই আজ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে, কেউ পুলিশে চাকরি করছেন, কেউ ভালো জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তারা যখন ফিরে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। তখন মনে হয়, আমাদের এই চেষ্টা বৃথা যায়নি।