বাঁচানো গেল না ৩৭টি কাঠবাদাম গাছ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) ক্যাম্পাস মাঠের পাশের একটি সড়ক সম্প্রসারণের কাজকে কেন্দ্র করে ৩৭টি কাঠবাদাম গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত এই গাছগুলো কাটা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ২০১০ সালের দিকে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ওই এলাকায় কাঠবাদাম গাছ রোপণ করা হয়। কলাবাগান থেকে ঘোষপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের একপাশে ছোট-বড় এসব গাছ দীর্ঘদিন ধরে ছায়া ও সবুজ পরিবেশ তৈরি করে আসছিল। তবে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পর ওই এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর অংশ হিসেবে গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিন সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যে ২৩টি গাছ কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি গাছগুলোর কয়েকটি কাটা হচ্ছে, কিছু গাছে উঠে ডাল কাটছেন শ্রমিকরা, আবার কিছু গাছের গোড়ায় করাত দিয়ে কাটা হচ্ছে। এ সময় অনেকেই দাঁড়িয়ে হতাশা নিয়ে পুরো দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করেন। গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মো. গাজী জানান, ৮ জন শ্রমিক তিন দিন ধরে কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন ৮০০ টাকা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। তার দাবি, সিটি করপোরেশনের নিয়ম মেনেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শামিউল ইসলাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘উন্নয়নের নামে গাছ কাটা হচ্ছে। উন্নয়ন বলতে তারা কী বোঝাচ্ছেন? মানুষের জীবনের সঙ্গে প্রকৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমরা সুস্থ ও সবুজ পরিবেশ চাই, প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়ন চাই না।’ রিফাত নামে আরেক স্থানীয় বলেন, ‘উন্নয়নের নামে আর কত গাছ কাটা হবে? নগরবাসীবান্ধব একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দরকার, যার মাধ্যমে গাছ ও সবুজ পরিবেশ রক্ষা করা যাবে।’
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী গাছগুলো কেটে বিক্রি করা হয়েছে। ফ্লাইওভার নির্মাণের পর ওই সড়কের একপাশের প্রস্থ কমে সাড়ে তিন মিটারের নিচে নেমে গেছে। ফলে সড়ক সম্প্রসারণের স্বার্থে গাছগুলো অপসারণ করা হয়েছে।’