‘আগুনে পুড়ে সব শেষ, সন্তানদের নিয়ে এক কাপড়ে বের হয়েছি’

‘আগুনে পুড়ে বসতি তো শেষ। বসতির ভেতর ৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩ লাখ টাকা পুড়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে এক কাপড়ে বের হতে পেরেছি। বাকি সবকিছু শেষ।’
এভাবে এশিয়া পোস্টের কাছে আর্তনাদ করছিলেন মুন্নী বেগম। কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে গ্যাস পাম্পে লাগা আগুনের ঘটনার ভুক্তভোগী তিনি। বুধবার রাতের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আসলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কথা হয় মুন্নী বেগমের আরেক প্রতিবেশী রমিজ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখনও বসতিতে ঢুকতে পারিনি। রান্নাও হয়নি। রাতে আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে সাহরি খেয়েছি। ফায়ার সার্ভিস আগুন না জ্বালাতে নির্দেশনা দিয়েছে।’
সরেজমিন দেখা যায়, কক্সবাজার এলপিজি স্টেশনের তিন পাশে রয়েছে অসংখ্য বসতি। রয়েছে পর্যটকবাহী গাড়ির গ্যারেজও। গ্যারেজটিতে পার্কিংয়ে থাকা ৩০টি ট্যুরিস্ট জিপ পুড়ে গেছে। একইসঙ্গে পাশের তিনটি ঘরও পুড়ে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পর্যটকবাহী একটি জিপের মালিক ও চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ করে আড়াই মাস আগে প্রস্তুত করা হয় গাড়িটি। কিন্তু গ্যাস পাম্পে আগুনে পুড়ে ছাই গাড়িটি।
তিনি জানান, তার গ্যারেজের পার্কিংয়ে আরও ৪০টি জিপ ছিল। শুধুমাত্র ১০টি গাড়ি বের করতে পারলেও বাকি গাড়িগুলো পুড়ে গেছে। পুরো গ্যারেজ পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে।
সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান।
তাদের সঙ্গে থাকা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আ. মান্নান জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের পর তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংক ঘিরে আগুনের সূত্রপাত হয়। পাম্পটি মাত্র তিন দিন আগে চালু হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্যাস পাম্পে অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা বা অনুমতি ছিল না। অনুমোদনহীন পাম্প চালু করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগুনে দগ্ধ হয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন চকরিয়ার সিকদার পাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে সাকিব (২৪), রামুর জোয়ারিয়ানালার আবুল হোসেনের ছেলে মো. সিরাজ (২৪), কলাতলীর মৃত জাকারিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫), আদর্শগ্রামের আবদু রশিদের ছেলে মোতাহের (৪৫), কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়ার কালামিয়ার ছেলে কামরুল হাসান, (৩০), আবু তাহের (৪৫), মেহেদী (২৬), খোরশেদ আলম (৫৩) ও টিটন সেন (৪০)।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু সাইদ বলেন, বার্ন ইউনিট না থাকায় দগ্ধদের মধ্যে ৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আবদুর রহিম ও আবু তাহেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। বাকিদের মধ্যে দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি ও দুজনকে চিকিৎসা শেষে ছাড় দেওয়া হয়েছে।