পাহাড় থেকে নারী এমপি বাছাইয়ে তিন বিষয়ে গুরুত্ব, আলোচনায় ৯ জন

তিন পার্বত্য জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সরকারি দল বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনায় পাহাড়ি ও বাঙালি নেত্রীদের মধ্যে ৯ জন আলোচনায় আছেন।
স্থানীয় রাজনীতিকদের মতে, দলের হাইকমান্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছ। এগুলো হলো– স্থানীয় রাজনীতিতে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভারসাম্য, দলীয় আনুগত্য এবং গ্রহণযোগ্যতা।
রাঙামাটি
রাঙামাটি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়রা চন্দ্রা চাকমা, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি মিনারা বেগম এবং স্থানীয় বিএনপি নেত্রী ফারজানা আক্তার ও লাকী তঞ্চঙ্গ্যা।
জানতে চাইলে সায়রা চন্দ্রা চাকমা এশিয়া পোস্টকে বলেন, পাহাড়িদের মধ্যে ছাত্রদল করা প্রথম নারী আমি আমি। আঞ্চলিক দলের নানা প্রতিকুলতা পেরিয়ে আমি ছাত্রদলের রাজনীতি করি। ২০১৪ সালের পর থেকে আমার রাজনীতি শুরু। আঞ্চলিক দলগুলোর কারণে অনেকে জাতীয় রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারে না। সেই ভয়কে জয় করে আমি রাজনীতিটা করেছি। জুলাই আন্দোলনে আমি মাঠে ছিলাম। তখন গ্রেপ্তার হই। দল যদি আমাকে নির্বাচিত করে আমি পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করব। পাহাড়ের নারীরা সব ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। দল অবশ্যই সব কিছু বিবেচনা করবে।
দল মূল্যায়নের বিষয়ে আশাবাদী জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি মিনারা বেগম। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, দলের জন্য আমার দীর্ঘদিনের শ্রম-ঘাম আছে। রাজপথে থেকে সবসময় লড়াই সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। মামলা-হামলার শিকার হয়েছি বহুবার। আশা করছি দল আমার শ্রমের মূল্য দেবে।
খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি জেলা থেকে একাধিক নেত্রী দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক কুহেলী দেওয়ান, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সহ-সম্পাদক শাহেনা আক্তার এবং জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক তাসলিমা সিরাজ সীমা।
দলীয় সূত্র বলছে, এই তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন কুহেলী দেওয়ান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
জানতে চাইলে কুহেলী দেওয়ান বলেন, দলের গত ১৭ বছরে বহুবার মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। মাসের পর মাস আদালতের দারস্থ হয়েছি। দলের হাইকমান্ড মূল্যায়ন করলে জেলার উদ্যোক্তা, শিশু ও নারীদের উন্নয়নের কাজ করা হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার।
বান্দরবান
জেলা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা বান্দরবান জেলা থেকে আলোচনায় আছেন। তার সঙ্গে মনোনয়ন পেতে সক্রিয় আছেন আরেক নেত্রী বান্দরবান জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরিনা আক্তার রোকসানা।
উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা বর্তমানে জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বান্দরবান উইমেন চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শিরিনা আক্তার রোকসানা আলীকদম উপজেলা পরিষদের চারবার নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি বর্তমানে আলীকদম উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এনেছে।
জানতে চাইলে উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা বলেন, গত ৩১ বছরে নারী সংরক্ষিত আসনে এই জেলা থেকে কেউ নির্বাচিত হননি। আমি নির্বাচিত হলে পাহাড়ি-বাঙালি সবার জন্য কাজ করব। পুরো পার্বত্য এলাকায় ৫২ শতাংশ বাঙালি। আশা করছি দলের নীতিনির্ধারকরা সব বিষয় মাথায় রেখে নির্বাচিত করবেন।
স্থানীয় নেতৃত্ব যা বলছে
স্থানীয় রাজনীতিকরা জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির জন্য রাজপথে ত্যাগী নেত্রীরা অগ্রাধিকার পাবেন। যারা রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন বিবেচনায় দলের প্রধান ঠিক করবেন, কে হবেন সংরক্ষিত আসনের এমপি।
এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন তালুকদার বলেন, দলের মনোনয়ন পেতে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্যতার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে মনোনীত করা হবে।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, এমন একটি জনগোষ্ঠী থেকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত, যে জাতিগোষ্ঠী থেকে এখন পর্যন্ত কেউ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হননি। তবে সব কিছু নির্ভর করে দলের প্রধানের উপর। আশা করছি দীর্ঘদিন যারা দলের জন্য পরিশ্রম করেছেন তাদের মূল্যায়ন হবে।
বান্দরবান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৩১ বছর ধরে বান্দরবান থেকে সংরক্ষিত আসনে এমপি হয়নি। তবে যারা দলের খারাপ সময়ে কাজ করেছেন তারাই মূল্যায়িত হবেন।