logo

বড়শিতে ধরা পড়া কুমিরটি এসেছিল খাবারের সন্ধানে

বড়শিতে ধরা পড়া কুমিরটি এসেছিল খাবারের সন্ধানে

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে আটকা পড়া কুমিরটি নোনা পানির প্রজাতি। এ ধরনের কুমির সমুদ্র বা উপকূলীয় লবণাক্ত পানিতে বাস করে। খাবারের সন্ধানে অনেক সময় নদীর মিঠা পানিতে চলে আসে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাজী বাড়ির খেয়াঘাট এলাকা থেকে কুমিরটি উদ্ধার করেছে খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগ।

খুলনা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য জানান, সাধারণত এ ধরনের কুমির সমুদ্র বা উপকূলীয় লবণাক্ত পানিতে বাস করে। মাঝে-মধ্যে খাদ্যের সন্ধানে মিঠা পানির নদীতে চলে আসে।

তিনি জানান, কুমিরটিকে খুলনায় নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত নোনা পানির আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।

সোমবার সকালে উপজেলার গোপালপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের ফেলা হাজাইরা বড়শিতে কুমিরটি আটকা পড়ে। জেলেরা কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে কাজী বাড়ির ঘাটে নিয়ে এসে প্রশাসনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে কুমিরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। বিকেলে খুলনা থেকে আসা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কুমিরটি উদ্ধার করে।

জেলে স্বপন ব্যাপারী জানান, তারা মাছ ধরতে গিয়ে বড়শিতে অস্বাভাবিক টান অনুভব করেন। পরে বুঝতে পারেন একটি বড় কুমির আটকা পড়েছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা কুমিরটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কুমিরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

তিনি নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেহেতু নোনা পানির কুমির পাওয়া গেছে, তাই শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে নদীতে নামার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানো হবে।

পদ্মা নদী কুমিরের স্বাভাবিক আবাসস্থল না হলেও অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে এখানে কুমির দেখা যাওয়ার ঘটনা রয়েছে।