Advertisement

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ঘিরে তোড়পাড়, অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন তথ্য

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ঘিরে তোড়পাড়, অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন তথ্য
পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি। ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম নির্যাতনের ভিডিও ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। এটি ২০২১ সালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার একটি মাদ্রাসায় সংঘটিত ঘটনার ভিডিও, যা নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাবুস সালাম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আনিছুর রহমান।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিক্ষক একাধিক শিক্ষার্থীকে বেত ও বাঁশ দিয়ে মারধর করছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ জাকারিয়া বলে শনাক্ত হয়েছেন। জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার প্রধান শিশুটি ওই শিক্ষকের ভাতিজা। পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজাকে শাসন করতে গিয়ে তিনি কক্ষে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদেরও মারধর করেন।

জানা যায়, ঘটনাটি ২০২১ সালে প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় আলেম-উলামা, অভিভাবক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং থানা পুলিশের উপস্থিতিতে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের আচরণের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে তিনি মুচলেকা দেন এবং লক্ষাধিক টাকা জরিমানা পরিশোধ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কিছুদিন ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করলেও বর্তমানে সেখানে কর্মরত নন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ‘মারকাজুন নূর’ নামে একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আনিছুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতনের সুযোগ নেই। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

তিনি আরও বলেন, কওমি শিক্ষা ব্যবস্থাও শিক্ষার্থীদের প্রতি সহিংস আচরণ সমর্থন করে না। কয়েক বছর আগে নিষ্পত্তি হওয়া একটি ঘটনা নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরো কওমি মাদ্রাসা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করারও চেষ্টা করা হচ্ছে।

কুমিল্লা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি শামছুল ইসলাম জিলানী বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় আলেম-উলামা, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক মুচলেকা দেন, লক্ষাধিক টাকা জরিমানা পরিশোধ করেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। পরে তিনি কিছুদিন ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করলেও বর্তমানে সেখানে নেই।

তিনি আরও বলেন, মুরাদনগরের ওলামায়ে কেরাম ও ঢাকা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক যেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ না করেন, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ জাকারিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, কয়েক বছর আগের এই ভিডিওটি কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন প্রেক্ষাপটে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি, ঘটনাটি পুরোনো। তারপরও বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :কুমিল্লা