logo

কালের নীরব সাক্ষী ৫০০ বছরের শিমুল গাছ

কালের নীরব সাক্ষী ৫০০ বছরের শিমুল গাছ

শুধু স্মৃতি নয়, জড়িয়ে আছে মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা। সময় বদলালেও কালের নীরব সাক্ষী হয়ে ৫০০ বছর থেকে দাঁড়িয়ে আছে এক শিমুল গাছ। কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই গাছটি যেন এক জীবন্ত ইতিহাস।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ৮ শতক জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা শিমুল গাছটির উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট। গোড়ার পরিধি ৫০ ফুটেরও বেশি। সামনে দাঁড়ালে মনে হয়, প্রকৃতি নিজ হাতে গড়ে তুলেছে এক বিশাল স্মৃতিসৌধ। পেছনের দিক ঝোপঝাড়ে ঢাকা থাকলেও সামনে দাঁড়ালেই চোখ আটকে যায়, বিস্ময়ে থমকে দাঁড়াতে হয়।

গাছটির ডালে ডালে মৌচাক, নানান প্রজাতির পাখির বাস। বিকেল নামলেই পাখির কলরবে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। যেন প্রকৃতি নিজেই এখানে গান গায়, মানুষকে শোনায় তার বেঁচে থাকার গল্প।

স্থানীয়রা জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা শুনে আসছেন-শিমুল গাছটি কয়েকশ বছরের পুরোনো। পয়লা বৈশাখসহ নানা উৎসবে এই গাছের তলায় মেলা বসে, চলে পূজা-অর্চনা ও নানা ধরনের আচার অনুষ্ঠান। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই গাছকে পবিত্র মনে করেন। 

স্থানীয়দের কাছে শিমুল গাছটি শুধু প্রকৃতির উপহারই নয়, এটি একটি ‘স্মৃতিসৌধ’, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের শেকড়, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি মিশে আছে।

গাছটি দেখতে প্রতিদিন শতা শত দর্শনার্থী আসেন- এর অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তারা এর বিশাল কাণ্ডের ছায়ায় দাঁড়িয়ে বিস্মিত হন, এর শাখায় বসা পাখির কলতানে মুগ্ধ হন। বিকেল গড়ালে টিয়া, শালিক, দোয়েল, চড়ুই আর মৌমাছির গুঞ্জন এক অপূর্ব সুরময় ধ্বনি তৈরি করে গাছটিকে ঘিরে। সন্ধ্যায় গাছটির নিচে দাঁড়ালে মনে হয়, প্রকৃতির এক মহাসংগীত যেন গুঞ্জরিত হচ্ছে এর শাখায় শাখায়।

শিক্ষাবিদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গাছটি শতাব্দীর পর শতাব্দী, প্রজন্মের পর প্রজন্মের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আসলে গাছটি শুধু একটি গাছই নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, আমাদের পরিচয়, আমাদের সংস্কৃতির এক জ্যান্ত প্রতিচ্ছবি। এর রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মির্জা নাসির উদ্দীন বলেন, এ ধরনের প্রাচীন বৃক্ষ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় গাছ জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।