logo

হঠাৎ ভিডিও কলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন 

হঠাৎ ভিডিও কলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন 

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাসেবার বাস্তব চিত্র দেখতে আকস্মিকভাবে ভিডিও কলের মাধ্যমে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। এসময় ছুটির মধ্যেও দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর সোয়া ১২টায় সিরাজগঞ্জ থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এই সময় তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ইনডোর পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিটের চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসকদের খোঁজ নেন এবং সেখানে দায়িত্বে থাকা চারজন চিকিৎসকের মধ্যে একজনকে অনুপস্থিত পান। এই বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা যেন না হয় সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ আব্দুল আহাদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘যাকে অনুপস্থিত বলা হচ্ছে সেই চিকিৎসক মূলত ছুটিতে আছেন। শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে আমার হাসপাতালের অবস্থান। ৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ৬৫ জন রোগী ভর্তি আছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নেই। মাত্র চারজন চিকিৎসক আছেন। ঈদের ছুটিতে সবাই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। বিষয়টি ভুল বুঝাবুঝি।’

পরিদর্শনকালে ঈদের ছুটির মধ্যেও দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ‘আপনারা এই দুর্গম এলাকায় মানুষের ভরসা। আপনাদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে।’

ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি জরুরি বিভাগের নার্স এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন। রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি সেবার মান সম্পর্কে মতামত নেন এবং সেবা পেতে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে কি না তা জানতে চান। এছাড়া তৃণমূলের মানুষ যাতে সময়মতো ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।

ড. এম এ মুহিত বলেন, ঈদের ছুটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সরকারের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে সরকার একটি যুগান্তকারী রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুরক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।