logo

জাহিদ মিয়া আর জাগেনি

জাহিদ মিয়া আর জাগেনি

নিজের ভাঙা ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়ে ছিলেন জাহিদ মিয়া। গভীর রাতে তারই দুই শ্যালক (স্ত্রীর চাচাতো ভাই) ঘরে ঢুকে ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কয়েকটি কোপ দেয়। আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে জাহিদকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গেল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার ৭ দিন পর মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান জাহিদ মিয়া (৬৫)। নিহত জাহিদ মিয়া সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চনারচর গ্রামের নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত জমাদার মিয়ার ছেলে।  

নিহতের পরিবারের দাবি, গ্রামের একই মালিকের কাছ থেকে জাহিদ মিয়া ও তার দুই শ্যালক বাড়ির জায়গা কিনে ছিলেন। ৩৭ শতাংশ জায়গার মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ জাগায় কিনেছিলেন জাহিদ মিয়া, বাকি জায়গা কিনেন তৈয়ব আলী ও তরিক আলী। পরে ভুলবশত জাহিদ মিয়ার বাড়ির জায়গাটুকুও তার শ্যালকদের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। এনিয়ে অনেক বিচার সালিশ করে বাড়ির জায়গার বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি। 

ঘটনার আগে বসতঘর তৈরিতে জাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলামকে বাধা দেন তার মামারা। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দিরাই থানায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশ গিয়ে বিরোধকৃত বাড়ি জায়গা পরিদর্শন করেন। অভিযোগের বিষয়ে ঘটনার রাতে থানায় গিয়েছিলেন সাইফুল। পরে বাড়িতে ঢুকে দেখতে পান তার বাবার মাথায় ও হাতে জখম। ঘটনার পর তার মামার দুই পরিবারের সবাই পালিয়ে গেছেন।  

নিহতের ছেলে সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এক মালিকের কাছ থেকে আমরা ও মামারা বাড়ির জায়গা কিনেছিলাম। কিন্তু ভুলে আমাদের জায়গাটুকু মামাদের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। এনিয়ে বার বার সালিশ বিচার করেও কোনো সুরাহা হয়নি। আমাদের ভাঙা ঘর মেরামত করার সুযোগ দিচ্ছেন না মামারা। উল্টো আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনার রাতে আমি থানা থেকে বাড়ি ফেরার সময় দেখি আমার মামারা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। দুই মামার বিরুদ্ধে থানায় আমি অভিযোগ করেছিলাম ঘটনার পরদিনই। পরে তাদের দুই পরিবারের সবাই পালিয়ে গেছেন।’  

নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাদিছ মিয়া বলেন,‘ঘটনার রাতে জাহিদ মিয়া ভাঙা ঘরে ঘুমে ছিলেন। রাতে কে বা কারা তার ঘরে ঢুকে দা দিয়ে তার মাথায় কয়েকটি কোপ দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা গেছে তিনি। তার পরিবারের লোকজনের দাবি বাড়ির জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ঘটনার পর থেকেই তার স্বজনরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।’

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘চনারচর গ্রামের নোয়াগাঁও গ্রামে একটি বাড়ির জায়গার বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের আঘাতে আহত একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায়  মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করার চেষ্টা চলছে।’