Advertisement

কুড়িগ্রামে তীব্র লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ জনজীবন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে তীব্র লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ জনজীবন
সেচ সংকটে আমন চাষিরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষ। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর ওপর ভরা আমন মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় কৃষকরা যখন জমিতে সেচ দিতে ব্যস্ত, তখন ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাদের চরম সংকটে ফেলেছে। এতে আমন চাষ নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।

Advertisement

অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। কম্পিউটার, ফটোকপি, প্রিন্টিং, ওয়েল্ডিং, ওয়ার্কশপ ও কোল্ড স্টোরেজসহ ফ্রিজিং ব্যবসাসমূহ ঠিকমতো পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক ব্যবসায়ীকে বাড়তি খরচ গুনে জেনারেটর বা বিকল্প উপায়ে কাজ চালাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষদের কষ্ট সীমাহীন রূপ নিয়েছে। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে অনেক জমিতেই কৃত্রিম সেচের প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গভীর নলকূপ ও সেচযন্ত্রগুলো নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পেরে শংকিত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। অনাবৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমনের ফলনে বড় ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানান তারা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, এখন আমন চাষের মূল সময়। বৃষ্টি হচ্ছে না, তাই সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত রাখতে হচ্ছে। কিন্তু কখন বিদ্যুৎ আসে আর কখন যায়, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানের মারাত্মক ক্ষতি হবে।

আরেক কৃষক জাহাঙ্গীর আলম আফসোস করে বলেন, জমিতে পানি দেওয়ার জন্য রাতে সেচযন্ত্র চালানোর চেষ্টা করি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় দিনের পর দিন ঘুরেও সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। আর ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসায়ী আব্দুল বাতেন বলেন, সারা দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যায়। মেশিন চালানো যাচ্ছে না, ফলে কাজের অর্ডার জমে থাকছে। এভাবে ক্ষতি সহ্য করে ব্যবসা চালানো কঠিন।

এদিকে তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকরাও। সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার হাবিবুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘দিনে কাজের সময়ে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, আবার রাতে ঘুমানোর সময়ও লোডশেডিং। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন থাকায় আমাদের জীবন একদম স্থবির হয়ে পড়েছে।’

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের সাতটি উপজেলায় প্রায় পাঁচ লাখ গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের জন্য দৈনিক বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৭৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট। অথচ বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় তীব্র ঘাটতি থাকায় বাধ্যতামূলকভাবেই এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

পৌর শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহসংক্রান্ত বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শামীম পারভেজ বলেন, জাতীয়পর্যায়ে জ্বালানি সংকটের কারণেই মূলত বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। চাহিদার তুলনায় আমরা অর্ধেকের কাছাকাছি বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এ পরিস্থিতি সামাল দিতেই নিয়ম মেনে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে সরবরাহ ঠিক কবে নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে, সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।