‘এসি নষ্ট’ অজুহাতে বন্ধ ইসলামী ব্যাংকের বুথ, টাকা না পেয়ে ক্ষোভ

যশোরে ইসলামী ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও এটিএম বুথগুলোতে নগদ অর্থের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। প্রয়োজনের সময় টাকা উত্তোলন করতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ গ্রাহকরা। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদা অনুযায়ী অর্থ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
রোববার (১৪ জুন) শহরের আরএন রোডে ইসলামী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় গিয়ে দেখা যায়, ব্যাংক খোলার আগেই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক টাকা উত্তোলনের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। হাতে চেক নিয়ে অপেক্ষা করলেও পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকায় অনেককেই দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। সাপ্তাহিক ছুটির পর প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় গ্রাহকের চাপও ছিল বেশি।
জানা গেছে, যশোরে ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখা ও দুটি উপশাখা রয়েছে। এর মধ্যে আরএন রোডে করপোরেট শাখা এবং সিটি প্লাজা ও পালবাড়ি এলাকায় দুটি উপশাখা। গ্রাহকদের অভিযোগ, তিনটি কেন্দ্রেই একই ধরনের সংকট বিরাজ করছে। প্রয়োজনীয় অর্থ না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ জানান, ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করতে সকালে ব্যাংকে এসেছিলেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় অর্থ পাননি। তিনি বলেন, নিজের টাকা তুলতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন আটকে আছে। এমন পরিস্থিতি আগে দেখিনি।
শাওন নামে এক গ্রাহক জানান, জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এক ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান শামসুজ্জামান সজন। তিনি জানান, দেড় লাখ টাকার একটি চেক নিয়ে ব্যাংকে এসেছিলেন। কিন্তু তাকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
সংকটের প্রভাব পড়েছে এটিএম বুথগুলোতেও। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বুথ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ‘এসি নষ্ট’ উল্লেখ করে শাটার আংশিক নামিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে এটিএমনির্ভর গ্রাহকরাও নগদ অর্থ উত্তোলনে সমস্যায় পড়ছেন।

ভুক্তভোগী আমিনুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার পুলেরহাট এলাকার একটি বুথে টাকা তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হন। পরে রেলগেট এলাকার আরেকটি বুথে চেষ্টা করেও টাকা পাননি।
গ্রাহকদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই নগদ অর্থ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এতে ব্যাংকটির গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা সময়মতো অর্থ উত্তোলন করতে না পারায় তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ, মালামাল ক্রয় এবং অন্যান্য আর্থিক দায় পরিশোধেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, সাময়িক তারল্য সংকট ও গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের চাপে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের যশোর অঞ্চলের জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ বজলুর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকে তারল্য সংকট রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। পাশাপাশি ঋণগ্রহীতারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করলে সংকট আরও কমবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমরাও আশাবাদী, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে পুরোপুরি ভরসা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। তাদের দাবি, দ্রুত নগদ অর্থের সরবরাহ স্বাভাবিক করে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত না করলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এজন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে টাকার সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (১৪ জুন) সকালে এই সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে এই টাকা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা পাওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকে চেক নিষ্পত্তি আবার চালু হয়েছে।
