ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভোটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। জেলাজুড়ে বহুমাত্রিক নিরাপত্তায় মোট ৩ হাজার ৬৬৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে মাঠে থাকবেন।
জানা গেছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর ৬২০ জন, বিজিবির ৪৩০ জন, পুলিশের ২ হাজার ৩৮৯ জন, র্যাবের ৭২ জন এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ১৫২ জন সদস্য অংশ নেবেন। এর বাইরে প্রতিটি কেন্দ্রে সহায়তায় থাকবেন গ্রাম পুলিশ— চৌকিদার ও দফাদাররা। তারা ভোটকেন্দ্র পাহারা, টহল ও স্থানীয় সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
জেলার ৮০৫টি ভোটকেন্দ্র ঘিরে নেওয়া হয়েছে স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবেন একজন করে প্রিসাইডিং অফিসার—মোট ৮০৫ জন। তাদের সহায়তায় দায়িত্ব পালন করবেন ৫ হাজার ১৫২ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ১০ হাজার ৩৬৪ জন পোলিং অফিসার। ভোট গ্রহণ থেকে ফলাফল প্রেরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার এশিয়া পোস্টকে বলেন, নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি, অপরাধ প্রতিরোধ এবং প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। তারা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাহিনীগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।
এ ছাড়া ঝুঁকি মূল্যায়নে দেখা গেছে, জেলার ৯২টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৪৮২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৩১টি সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স, ঘন টহল এবং স্ট্রাইকিং টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রিটানিং কর্মকর্তা বলেছেন, ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৪৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার ২৬ লাখ ৮ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৪০ জন এবং নারী ভোটার ১২ লাখ ৪১ হাজার ৭৩১ জন।