logo

বেতন-ভাতার দাবিতে কুড়িগ্রামে মাদ্রাসায় তালা, সুপারসহ দুজন অবরুদ্ধ

বেতন-ভাতার দাবিতে কুড়িগ্রামে মাদ্রাসায় তালা, সুপারসহ দুজন অবরুদ্ধ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন শিক্ষকরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অফিসকক্ষে তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ রেখেছেন শিক্ষকরা। এ সময় তালাবদ্ধ কক্ষের সামনের বারান্দায় বসে বিক্ষোভ করেন তারা।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় মাদ্রাসা সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানকে তাদের অফিসকক্ষে তালাবন্দি করেন অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা জানান, এমপিওভুক্ত এই মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এই দ্বন্দ্বের জেরে মাদ্রাসার সব শিক্ষক ও কর্মচারীর গত ছয় মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছেন সুপার।

সহকারী শিক্ষক ইমরুল কায়েস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুপার ও অফিস সহকারীর মধ্যে নিয়োগসংক্রান্ত ঝামেলা চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপার সবার বেতন বন্ধ রেখেছেন। আমরা ছয় মাস ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। আমাদের মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সুপার আমাদের বেতন আটকে রেখে অমানবিক কাজ করেছেন। আজ আমরা তাদের দুজনকে আটকেছি। এর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না।

আরেক সহকারী শিক্ষক রত্না পারভীন জানান, বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তাদের পক্ষে পরিবার চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচও চালাতে পারছেন না তারা। বাধ্য হয়ে সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন তারা।

সহকারী মৌলভী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে। বেতন পেলে আমরা পাঠদানে ফিরব।

এদিকে অবরুদ্ধ সুপার সাইদুর রহমান সমস্ত দোষ অফিস সহকারী শফিয়ারের ওপর চাপিয়ে বলেন, আমি বেতন আটকাইনি। বেতনের সব কাগজপত্র প্রস্তুত করেছিলাম, কিন্তু অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান সেগুলো ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সুপার বেতন দেবেন, এতে আমার আপত্তি থাকার কোনো কারণ নেই। তিনি সব মিথ্যা কথা বলছেন।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য মাদ্রাসার সভাপতিকে অবগত করা হয়েছে।