logo

রংপুরে সাড়া ফেলেছে গরুর আবাসিক হোটেল

রংপুরে সাড়া ফেলেছে গরুর আবাসিক হোটেল
গরুর আবাসিক হোটেল। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে দমদমা ব্রিজের কাছে বিশাল খোলা জায়গায় টিনের ছাউনির নিচে শত শত গরু বাঁধা। দেখে মনে হবে গরুর হাট। তবে এটি কোনো হাটের চিত্র নয়, ‘গরুর আবাসিক হোটেল’। ব্যতিক্রমী এ হোটেলে একসঙ্গে ৪০০-৫০০ গরু রাখা যায়। প্রতিদিন মাত্র ৬০ টাকা ভাড়ায় এ হোটেলে গরু রাখতে পারছেন পাইকার ও খামারিরা। নগরীর মডার্ন মোড়ে বারো আউলিয়া এলাকায়ও রয়েছে এমন হোটেল।

‘গরুর আবাসিক হোটেল’-এ স্বল্প খরচ ও নিরাপদে গরু রাখার সুবিধা পেয়ে খুশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। এতে যেমন গরুর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে গরুর আবাসিক হোটেল সারা দেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

সরেজমিন মঙ্গলবার নগরীর দমদমা ব্রীজ-সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে গরুর আবাসিক হোটেল। সেখানে ৪০০-৫০০ গরু রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা খামারি ও পাইকারি গরু ব্যবসায়ীরা অস্থায়ীভাবে তাদের গরু এই আবাসিক হোটেলে রাখছেন। রয়েছে গরুর থাকা, খাওয়া ও নিরাপত্তাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা। এক রাত রাখতে হলে প্রতিটি ছোট গরুর জন্য দিতে হয় মাত্র ৬০ টাকা। বড় গরুর জন্য ১০০ টাকা।

দমদমা এলাকার গরুর আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার মোবারক আলী ভুট্টো বলেন, প্রতিদিন মাত্র ৬০ টাকা ভাড়ায় এখানে গরু রাখতে পারছেন পাইকার ও খামারিরা। গরুর থাকা খাওয়ার সুবিধার পাশাপাশি খামারি ও ব্যবসায়ীদের জন্য রয়েছে থাকার আলাদা ব্যবস্থা।

মডার্ন মোড় এলাকায় গরুর আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন বলেন, খামারি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপদ পরিবেশে গরু রাখাসহ সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

গরুর এই আবাসিক হোটেলের মালিকপক্ষ বলছে, কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতিদিন দুই শিফটে ২০ জন গরুর দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন। সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন তারা। দিনে বা রাতে নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে গরু রাখার সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বাজারে গরু কেনাবেচার আগ পর্যন্ত নিরাপদে রাখার চিন্তা কমেছে।

রংপুর অঞ্চলের গরুর মাংসের চাহিদা রয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, শরীয়তপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এখানে আসেন গরু কিনতে। তবে কয়েক দিন ধরে গরু কিনে রাখার নিরাপদ জায়গা না থাকায় দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে ছিলেন তারা। এখন বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে এনে এই আবাসিক হোটেলেই রাখছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের অন্যান্য জেলায়ও এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে খামারি ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।

চট্রগ্রাম থেকে গরু কিনতে আসা আব্দুর রউফ বলেন, রংপুরের হাট ও গ্রাম থেকে এ পর্যন্ত ২৬টি গরু কিনেছি। আগে গরু কিনতে আসলে অনেক কষ্ট হতো। গরু রাখার জায়গা পেতাম না। হাটের সাইডে খোলা আকাশের নিচে রাখা লাগতো। কোন নিরাপত্তা ছিলো নাহ। এখন আলহামদুলিল্লাহ আমরা এখানে গরু রাখতে পারতেছি নিরাপত্তায়। এটা খুবই ভালো হইছে। গতবারেও এখানে গরু রাখছিলাম। এবারেও রাখছি।

তিনি আরও বলেন, রংপুরে আসছি এক সাইজের গরু কেনার জন্য। এক দিনেই এতগুলো গরু কেনা সম্ভব নয়। তার জন্য আমরা এই আবাসিক হোটেলে গরু রেখে দুই-তিনটি হাট ও গ্রাম ঘুরে গরু কিনে এক গাড়ি হওয়ামাত্রই পাঠে দিতেছি। আমার মতো অনেকেই এভাবে গরু কিনতেছে।

শরীয়তপুর থেকে গরু কিনতে আসা যুবক আল আমিন বলেন, প্রতি হাটে পাঁচ-ছয় করে গরু কিনে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় গরুর আবাসিক হোটেলে রেস্টের জন্য রাখা হয়। যখন ২০-২৫টি গরু হয়, তখন একটি বড় গাড়ি লোড দিয়ে একবারে নিয়ে যাই। এই গরুর আবাসিক হোটেলে একটি সুবিধা আছে, এক রাত প্রতিটি গরুর জন্য ৫০ টাকা দিতে হয়। গরুর খাবার এখানেই কিনতে পাওয়া যায়। আমাদের আর বাইরে যেতে হয় না। গরুর আবাসিক হোটেলের পাশেই আমাদের থাকার ব্যবস্থা আছে। সেখানে আমরা নিরাপদে থাকতে পারি। এখানে মানুষের সেফটি আছে।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল হাই সরকার বলেন, গরুর আবাসিক হোটেল নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এ অঞ্চলের দেশি জাতের গরুর ব্যাপক চাহিদা আছে দক্ষিণাঞ্চলে। ফলে অনেক পাইকার আর গৃহস্থ আসেন গরু ক্রয়-বিক্রয় করতে। আবাসিক হোটেলে গরু রাখায় তাদের অনেক সমস্যার সমাধান হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে।

ঈদের সময় প্রতিদিন ৪০০-৫০০ গরু থাকছে এই আবাসিক হোটেলে। পাশেই রয়েছে খাবারের ব্যবস্থা। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু পরিবহন ও রাখার ঝামেলা কমাতে রংপুরের এই দুই ‘গরুর আবাসিক হোটেল’ এখন খামারি ও ব্যবসায়ীদের কাছে হয়ে উঠেছে আস্থার জায়গা।