কুবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশি হেফাজতে
-c1f0e0-720x405.webp)
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী নাজমুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফারজানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী নাজমুলও একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। ফারজানার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় এবং তার স্বামীর বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তারা ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের কারণে গত বছরের ডিসেম্বরে ফারজানা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন।
আরিফুলের ভাষ্য, সম্প্রতি দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও বোনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা হয়েছিল বলে জানান আরিফুল।
ফারজানার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানান, পরিবারের অভিযোগসহ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

