logo

বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার ছাত্রদল নেতা মো. শফিকুল ইসলাম ইমরান। ছবি: ইমরানের ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া

পটুয়াখালীতে ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে আহত ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ছাত্রদল নেতা মো. শফিকুল ইসলাম ইমরানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আসামিদের দাবি ড্রেজার স্থাপনের জন্য ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন মামলার বাদী শ্রীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খলিল জোমাদ্দার।

শনিবার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দুমকি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ইমরান ওই গ্রামের মো. জলিল হাওলাদারের ছেলে এবং সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। মামলায় তিনি ২ নম্বর আসামি।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর সকালে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান জমাদ্দার (৫৬) স্থানীয় তালতলী বাজারে অবস্থান করছিলেন, ফোনে কথা বলছিলেন। এসময় ছাত্রদল নেতা রাকিব হাওলাদার ওরফে কসাই রাকিব ও শফিকুল ইসলাম ইমরানসহ ৪-৫ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত খলিল জমাদ্দারকে উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খলিল জমাদ্দার বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে দুমকি থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, হামলার সময় তার পকেটে থাকা ২১ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

তবে এ ঘটনায় পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্তরা। মামলার ১ নম্বর আসামি মো. রাকিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রদলের কয়েকজন বালুর ড্রেজারের লাইন বসাতে গেলে বিএনপি নেতা খলিল জোমাদ্দার বাধা দেন এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে তিনি রাস্তায় পড়ে আহত হন। তাকে কেউ পিটিয়ে আহত করেনি।

একই দাবি করে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইমরান ও রাকিব পৃথকভাবে ফেসবুক লাইভেও বক্তব্য দেন এবং বলেন, তারা ড্রেজার লাইন নেওয়ার আগেই খলিল জোমাদ্দারকে ৫০ হাজার টাকা অ্যাডভান্স দেন কিন্তু পরে ব্যবসা লস হওয়ায় খলিল জোমাদ্দারের কাঙ্ক্ষিত চাঁদার বাকি দেড় লাখ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তখন কথায় কাটাকাটি হয় এবং বিপত্তি ঘটে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।