logo

অবৈধ দখলে ২ কোটি টাকার ‘বাস বে’

অবৈধ দখলে ২ কোটি টাকার ‘বাস বে’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন ও যাত্রী ভোগান্তি লাঘবে নির্মিত দুটি ‘বাস বে’ (বিকল্প সড়ক) কোনো কাজেই আসছে না। নির্মাণের পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সুফল মিলছে না এই প্রকল্পের। যাত্রী ওঠানামার জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই নির্দিষ্ট স্থানগুলো এখন ট্রাক, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহনের দখলে। ফলে মূল সড়কেই যত্রতত্র বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলায় যানজট ও ভোগান্তি শহরবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্বরোড মোড় থেকে রেহাইচরের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু পর্যন্ত মহাসড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০২০ সালে শহরের বিশ্বরোড ও শান্তিমোড় এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ‘বাস বে’ নির্মাণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, মূল সড়কের ওপর চাপ কমিয়ে বাসগুলোকে নির্ধারিত স্টপেজে সরিয়ে নেওয়া।
 
কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণের ৫ বছর পার হলেও বাস চালকরা বিকল্প এই সড়ক ব্যবহার করছেন না। শান্তিমোড় এলাকার বাস বে-টি এখন স্থানীয় দোকানপাটের পণ্যবাহী ট্রাক ও কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানের দখলে। দিনভর সেখানে চলে মালামাল লোড-আনলোডের কাজ। বিকল্প এই সড়কটির প্রবেশ মুখে দাঁড়িয়ে আছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ যাত্রী পরিবহনকারী সিএনজি অটোরিকশা। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি বিকল্প সড়ক। অন্যদিকে বিশ্বরোড মোড়ের বাস বে-টির প্রবেশমুখ দখল করে থাকে থ্রিহুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এমনকি পাশের হোটেলের গ্রাহকরা তাদের মোটরসাইকেলও পার্কিং করছেন এই সড়কের ওপর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে রাজশাহী রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী ও অধ্যাপক আতাউর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, এই রুটে গেটলক, মহানন্দা এক্সপ্রেস ও বিআরটিসি-তিন ধরনের বাস চলে। প্রতিটি বাস ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় দাঁড়ানোর কারণে যাত্রীরা, বিশেষ করে নতুনরা কোথায় দাঁড়াবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। বাসগুলো নির্দিষ্ট বাস-বে তে দাঁড়ালে এই ভোগান্তি হতো না।

আনোয়ার হোসেন নামে আরেক নিয়মিত যাত্রী জানান, যত্রতত্র বাস থামানোর ফলে সৃষ্ট যানজটে অনেক সময় রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ে। অথচ এসব দেখার যেন কেউ নেই।

তবে বাস চালকদের দায়সারা বক্তব্য। বাসচালক সেতাউর রহমান বলেন, বাস বে গুলোর ওপর দিয়ে বাস যাওয়ার কথা থাকলেও অনান্য যানবাহনই বেশি চলাফেরা করছে। এই রাস্তাগুলো নির্মাণ করার পরপরই দখল হয়ে গেছে। যেদিক দিয়ে এই রাস্তায় গাড়ি ঢুকাব, সেখানেই থাকছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। যার কারণে ওই রাস্তা দিয়ে বাস চলাচল করে না। সওজ যেখানে বাস বে নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে গেলে যাত্রী পাওয়া যায় না। যার কারণে আমরা ওখানে দাঁড়ায় না।

শান্তি মোড়ের বাস বে’র প্রবেশমুখে সিএনজি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জহরুল ইসলামের ভাষ্য, এই সড়কটি নির্মাণের পর থেকেই কোনো কাজেই আসছে না। সবাই এটিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে। ধরতে গেলে, এটি এখন সিএনজি আর অটোরিকশার স্ট্যান্ড হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন এখানে সবাই গাড়ি রাখছে, তাই আমরাও রাখছি। 

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়ি না থাকায় বাসচালকরা যেমন নিয়ম মানছেন না, তেমনি অবৈধ দখলদাররাও প্রশ্রয় পাচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্বরোড এলাকার দোকানি শহিদুল ইসলাম বলেন, বাস বেগুলো বাস চালকরা ব্যবহার করেন না বলেই সেগুলো দখল হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে পুলিশের ভয়ে দু-একটা বাস যাতায়াত করে বাস বে দিয়ে, না হলে বাস চালকরা এ সড়কটি এড়িয়ে চলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. নাহিনুর রহমান জানান, যানজট কমাতেই এই বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, মূলত বাস চালকদের সদিচ্ছার অভাবেই বাস বে দুটি ব্যবহার হচ্ছে না। যদি চালকরা এগুলো নিয়মিত ব্যবহার করতেন, তবে শহরের যানজট অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আসত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মুনিরুজ্জামান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ তদারকি ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা না হলে সরকারি এই দুই কোটি টাকার বিনিয়োগ পুরোপুরি অপচয় হবে।