logo

আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করে ‘পাবলিক টয়লেট’ ঘোষণা

আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করে ‘পাবলিক টয়লেট’ ঘোষণা

ময়মনসিংহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে সেটিকে পাবলিক টয়লেট হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নগরীর গাঙ্গিনারপাড় শিববাড়ি এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের এক নেতার নেতৃত্বে এ কার্যাক্রম চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার পর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মো. আয়াস। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শ্রমিকসহ চার ব্যক্তি। শ্রমিকরা কলাপসিবল গেটের পাশে থাকা একটি জানালা ভেঙে ফেলার পর অপর জানালাটির কিছু অংশ ভাঙা হয়। 

এ সময় ভেতরে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচির একটি ব্যানার ছিঁড়ে কার্যালয়টির সামনে একটি টায়ারে আগুন দেওয়া হয়। 

খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে সেখানে পুলিশ যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা এসে দলটিকে সরিয়ে দিয়ে টায়ারের আগুন নিভিয়ে কার্যালয় ভাঙা বন্ধ করে দেয়। এ সময় জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মো. আয়াস স্থানীয় কয়েকজনের তোপের মুখে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় কার্যালয়টি খোলার গুঞ্জন ওঠে এবং গোপনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও করা হয়। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আজাদ জাহান শামীমের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মূলত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আল নূর মো. আয়াস বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই রেদোয়ান হোসেন সাগরকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। এখন তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। আমাদের যেসব ভাইয়ের রক্তে এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়েছে, সেখানে ফ্যাসিবাদের কোনো জায়গা হবে না। একই সঙ্গে কার্যালয়টি অফিশিয়ালি টয়লেট হিসেবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠিয়ে ভাঙচুর থামানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।