মাদকের টাকা না পেয়ে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন

চাঁদপুরে মাদক কেনার টাকা না দেওয়ায় বাবা মো. মুছাব্বর গাজীকে (৬০) কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে মো. হোসেন গাজীকে (৩৮) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হোসেন গাজী চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর ইচুলী এলাকার গাজী বাড়ীর মৃত মুছাব্বর গাজীর ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, আসামি হোসেন গাজী মাদকসেবী ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই তার বাবার সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতেন ও মারধর করতেন। তাকে মাদক সেবন থেকে বিরত রাখতে পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাও করানো হয়। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি।
২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি হোসেন গাজী তার ঘরে শোয়া অবস্থায় বাবাকে দা দিয়ে মাথায় দুটি কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি শয্যা থেকে ওঠার চেষ্টা করলে তাকে আবারও কোপ দেওয়া হয়, যা হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তার একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে শহরের ওয়ারলেস বাজার এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় নিহতের বড় ছেলে মো. আলম গাজী (৪২) তার ছোট ভাই হোসেন গাজীকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ১৭ নভেম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলাটি তদন্ত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মোমিনুল ইসলাম। তিনি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কোহিনুর রশিদ বলেন, মামলাটি বিচারকাজ চলাকালে আদালত ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ, নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামি নিজের অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলায় আসামি পক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া।


