ভালো কাজের প্রলোভনে ভারতে পাচারের চেষ্টা, শিশুসহ উদ্ধার ৮

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় শিশুসহ ৮ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় জীবননগর থানা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার আবুল নাসের এ তথ্য জানান।
উদ্ধারকৃতরা হলেন রাকিব মোল্লা (৩৭), নাইস মিনা খানম (৩০), লিমন মোল্লা, সাথী খাতুন (২৫), শিশু রিহান, ফাতেমা, ফারিয়া ও ইসমাইল। তারা সবাই নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার দোহা মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃতরা আগে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতো এবং কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে আসেন। পুনরায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা যশোর ও চুয়াডাঙ্গার একটি দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দালালরা তাদের ভারতে কার্টন তৈরির ভালো কাজের প্রলোভন দেখায় এবং বিনিময়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুক্তি করে। চুক্তির প্রেক্ষিতে রোববার ভোরে সীমান্ত পার করে দেওয়ার কথা বলে জীবননগর থানাধীন বেনীপুর এলাকায় নিয়ে আসা হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থানকালে দালাল ফারুক হোসেন ও ইসরাফিল হোসেন তাদের ভারতে প্রবেশ না করিয়ে কৌশলে তাদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় বাধা দিলে রাকিব মোল্লাকে বেধড়ক মারধর করে দালালরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জীবননগর থানা পুলিশ জানতে পেরে অভিযান চালায়। অভিযানে দালাল চক্রের সদস্য বেনীপুর মাঠপাড়ার ইসরাফিল (৩২) ও উজ্জ্বল হোসেনকে (৪০) আটক করা হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি এক দালাল চক্র ৪ জন শিশুসহ ৮ জনকে ভারতে পাচার করবে। তাৎক্ষণিক জীবননগর থানাকে ভিকটিম উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হলে বেনীপুর সীমান্ত থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় দালাল চক্রের ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানব পাচার আইনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধপথে সীমান্ত পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দালালদের প্রলোভনে পা না দিতে এবং যে কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে নিকটস্থ থানাকে অবহিত করার অনুরোধ জানান।