logo

জমি নিয়ে বিরোধের খেসারত ২০৩ শিক্ষার্থীর, গোয়ালঘরের বর্জ্যে নষ্ট পাঠের পরিবেশ

শাওন মোল্লা
জামালপুর
জমি নিয়ে বিরোধের খেসারত ২০৩ শিক্ষার্থীর, গোয়ালঘরের বর্জ্যে নষ্ট পাঠের পরিবেশ
অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে চলছে ২৪ নং নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দুই প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে বছরের পর বছর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদান চলছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০৩ শিক্ষার্থীর। বিদ্যালয়ের দেয়ালঘেঁষা গোয়ালঘর থেকে আসা বর্জ্য ও নোংরা পানিতে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। তীব্র দুর্গন্ধ, গোবরের স্তূপ আর বৃষ্টির সময় বর্জ্যপানিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশুদের। এমনি অভিযোগ জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ২৪নং নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। সাত বছর ধরে চললেও সমস্যাটির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের পশ্চিম দেয়াল ঘেঁষে রয়েছে একটি গোয়ালঘর। পাশেই দ্বিতীয় শ্রেণির শ্রেণিকক্ষ। গোয়ালঘরে জমে থাকা গোবর ও বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। বৃষ্টির সময় গোবরমিশ্রিত পানি গড়িয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ হয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতর পর্যন্ত চলে আসে বলে অভিযোগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের পেছনে বসবাসকারী জাহাঙ্গীর আলম ও মোশাররফ হোসেনের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। দুই পরিবারই পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে রেখেছন। ফলে তাদের গোয়ালঘরে পানি জমে থাকে। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়ের পরিবেশে। ফলে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে এখানে ২০৩ জন শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষক রয়েছেন। দুটি ভবনের ছয়টি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, গরমের সময় দুর্গন্ধ এতটাই বেড়ে যায় যে অনেক সময় নাক চেপে ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি হলে মাঠ ও শ্রেণিকক্ষের আশপাশে নোংরা পানি জমে যায়। এতে চলাফেরা ও পড়াশোনায় সমস্যা হয়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমি বলেন, অনেক সময় ক্লাসে বসে থাকা যায় না। জানালার পাশ থেকে গন্ধ আসে। গরমের সময় বেশি কষ্ট হয়।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, বৃষ্টি হলে মাঠে পানি জমে যায়। দুর্গন্ধও হয়। দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্লাসের ভিতরেও পানি জমে যায়। আমরা চাই স্কুলের পরিবেশটা ভালো হোক।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন্নাহার বলেন, নোংরা পরিবেশ ও দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা অস্বস্তিবোধ করে। একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি হলেও সমস্যাটির সমাধান হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, প্রায় সাত বছর ধরে সমস্যাটি চলছে। গোয়ালঘর সরিয়ে নেওয়া এবং পরিবেশের উন্নয়নের জন্য একাধিকবার বলা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে আলোচনা হয়েছে, শিক্ষা বিভাগকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে নাংলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গোয়ালঘরের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার গোয়ালঘর থেকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে কোনো পানি যায় না। মূল বিষয়টি জমি নিয়ে বিরোধ। অন্য মানুষদের ব্যবহৃত পানি আমার জমি দিয়ে যেতে দেব না। স্কুলের পানি যাক সমস্যা নেই। স্কুলের জায়গা যদি আরও লাগে আমি দেব। বিদ্যালয়ের দখলে আমার জমি রয়েছে। সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

মেলান্দহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ আলী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।