প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বাবার জানাজায় সাবেক এমপি

বাবার জানাজায় অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পান ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল চারটার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ে তার বাবা সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার দুপুর একটার দিকে দিনাজপুর কারাগার থেকে মাজহারুল ইসলামকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে তার বাবা দবিরুল ইসলামের জানাজা নামাজ হয়।
জানাজার আগে মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত সবার কাছে তার বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চান। এ সময় তাকে বাবার মরদেহের পাশে কান্না করতে দেখা যায়।
এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে সাবেক এমপি দবিরুল ইসলামের মরদেহ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সযোগে সমির উদ্দিন কলেজ মাঠে পৌঁছায়। সেখান থেকে বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে জানাজা শেষে বড়বাড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক এই সংসদ সদস্য। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তার দুই ছেলে ও দুই কন্যা রয়েছে।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের তিনি জামিনে মুক্তি পান। অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে দবিরুল ইসলামের। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মাধ্যমে।
তিনি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে সিপিবি থেকে ১৫ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। একই বছর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও জয়ী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সবশেষ ২০১৮ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দবিরুল। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দবিরুলের পরিবর্তে তার ছেলে মাজহারুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে মাজহারুল ইসলাম জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
